৫০০০ কোটি টাকার করোনা তহবিল থেকে শ্রমিকদের ৩ মাসের বেতন-ভাতা

করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের বিষয়ে কিছু গাইডলাইন দিয়ে নীতিমালা প্রস্তুত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছে।

উৎপাদিত পণ্যের অন্তত ৮০ শতাংশ রফতানি হয় এসব প্রতিষ্ঠান এ তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার যোগ্য হবে। পাশাপাশি সংকট চলাকালীন সময় তথা এপ্রিল, মে ও জুন এ তিন মাসের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এমন কিছু গাইডলাইন দেয়া হয়েছে।এসব গাইডলাইন দিয়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে তহবিল থেকে শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো তহবিল থেকে ২ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। এই ঋণ নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস কিস্তি দিতে হবে না, যা গ্রেস পিরিয়ড নামে পরিচিত। ঋণ নেওয়ার দুই বছরের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্তত ৮০ শতাংশ রফতানি হয় তারাই এ তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে। বাজেট থেকে টাকা না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিকারকদের ঋণ দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত তহবিল গঠনের সবকিছু চূড়ান্ত করেও সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই আজ মঙ্গলবারও প্রজ্ঞাপন জারি না করে আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নীতিমালা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কিছু গাইডলাইন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটা নির্দেশনা দিয়েছি। ওরা এ গাইডলাইনের আলোকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে একটা নীতিমালা করবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে। তার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিকারকরা এই তহবিল থেকে ঋণের জন্য আবেদন করবেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প মালিকদের নামে ঋণ হিসেবে তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া হবে। এই ঋণের মেয়াদ হবে দুই বছর। এর মধ্যে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সরকার কোনো ধরনের সুদ নেবে না। যে ২ শতাংশ সুদ শিল্প মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হবে, তা ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক সার্ভিজ চার্জ হিসেবে নেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো গাইডলাইনে আরও বলা হয় যে, যেসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অন্তত ৮০ শতাংশ রফতানি হয় তারাই এ তহবিল থেকে অর্থ নিতে পারবে। সংকটকালীন সময় তথা এপ্রিল, মে ও জুন এ তিন মাসের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান রফতানির সাথে যুক্ত নয় তারা এ তহবিল থেকে ঋণ নেয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী এ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতে এক মাসে বেতন দিতেই দরকার হয় ৪ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের জোগানদাতা এক্সেসরিজ শিল্পমালিকরাও এ তহবিল থেকে সহায়তা চেয়েছেন।


Bangladesh Bank has been asked to prepare a policy with some guidelines on the creation of a Tk 1,000 crore fund announced by the Prime Minister to pay the salaries of workers in coronavirus affected export sector.

If at least 5 percent of the product is exported, then these companies will be eligible to receive money from the fund. Besides, during the crisis, during the three months of April, May and June, workers will have to pay their salary and allowance with this loan. Here are some guidelines from the Ministry of Finance.

A letter from the Ministry of Finance was sent to Bangladesh Bank on Tuesday (March 7th) with these guidelines, Finance Ministry sources said.

Meanwhile, the government has withdrawn its decision to send money directly to the workers’ accounts. At a high-level meeting held at the Prime Minister’s Office on Monday, it was decided that the banks would lend 2 per cent interest from the fund, according to the owners’ request. The first six months will not be required to pay the loan, known as the grace period. The loan must be repaid within two years.

Those companies whose products produce at least 5 percent of their exports will be able to take money from this fund. The Ministry of Finance will issue Tk 1,000 crore bonds to the central bank without giving money from the budget. On the contrary, Bangladesh Bank will set up a refinance fund of Tk 1,000 crore and will provide loans to the affected exporters through the banks.

Principal Secretary to the Prime Minister’s Office. These decisions were made at an inter-ministerial meeting held on Monday, chaired by Ahmed Kayakous. In view of this, the finance ministry did not issue a notification on Monday, despite finalizing everything for the proposed fund of Tk 1,000 crore. Bangladesh Prime Minister has sent Bangladesh Bank for further scrutiny on Tuesday without the notification of the Prime Minister’s Office. At the same time, Bangladesh Bank has been recommended for policy.

Asked about the matter on Tuesday, Joint Secretary of Finance Sirajun Nur Chowdhury said, “We have given some guidance to Bangladesh Bank. They will do a detailed review in light of this guideline and make a policy. ‘

The Ministry of Finance will issue Tk 1,000 crore bonds in the name of Bangladesh Bank. On the contrary, Bangladesh Bank will set up a refinance fund of Tk 1,000 crore. In the light of Bangladesh Bank policy, the affected exporters will apply for loan from this fund to the public and private banks of the country. In view of this, money will be paid from the fund as a loan in the name of the industrial owners. The loan will be two years. It will have a six-month grace period. The government will not charge any interest. The 2 percent interest charged by the industry owners will be taken as a service charge by the distributing bank.

The guideline, sent from the Ministry of Finance to Bangladesh Bank, also states that companies that produce at least 5 percent of the products produced will be able to withdraw money from the fund. During the crisis period, ie, April, May and June, the workers will have to pay their salaries and borrow from this fund. Companies that are not associated with export will not be eligible to borrow from this fund.

In a speech addressed to the nation on the evening of March 27, Prime Minister Sheikh Hasina announced a special fund of Tk 1,000 crore to pay the salaries of workers of the export oriented industries.

Immediately after the Prime Minister announced the formation of the fund, BGMEA President Rubana Haque, the head of the garment industry, the main export export sector, said that the garment sector needs to pay Tk 1 billion a month. On the other hand, the apparel industry, which has been supplying various materials used for making garments, also sought help from the fund.

About Priyo Jobs