৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ এখনই নয়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য সময় লাগছে। এখন ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। তবে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। রোববার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনাল হোটেলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আদিকথা শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন তাদের ভেরিফিকেশনের বিষয়টি যেসব দপ্তরের আওতায় আছে তারা সর্বাত্মক সহযোগীতা আমাদেরকে করছে। এর জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু সময়তো আমাদেরকে দিতেই হবে।

তবে, আমরা ঠিক বলতে পারছি না কত তারিখের মধ্যে ভেরিফিকেশনের সব কাগজপত্র পাবো। কিন্তু যখনই পাবো তখনই এসব শিক্ষকদের চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ দেয়া হবে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সোমবার থেকে রাজধানীর ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর আটটি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। আর অন্যান্য জেলায় ২১টি কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রমের সার্বিক দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমরা সহযোগিতা করবো। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের টিকা দেয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনে জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা করা হলে দীপু মনি বলেন, স্কুল থেকে শিশুর জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে টিকার রেজিস্ট্রেশন করবে। এটাই নিয়ম। এজন্য সংশ্লিষ্টরা কাজ করেছে।

জানা যায়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজ শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন দীপু মনি। এদিন আরও সাতটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য সবাইকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, পরীক্ষা থাকবে কিন্তু সেটা যেনো বোঝা না হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতিতে ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে সবাইকে দৃষ্টি রাখতে হবে। মূল্যায়ন হবে তবে সেটা যেনো প্রতিযোগিতা না হয়।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরির স্কুলে ভর্তির শর্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ওজন ও উচ্চতা নির্ধারণ কাম্য নয়।

এটি আমার জানা ছিল না। ভর্তিতে যেন অসম প্রতিযোগীতা না হয় সেজন্য আমরা লটারির মাধ্যমে ভর্তির ব্যবস্থা করেছিলাম। এছাড়াও কারো নাম ধরে যেন ডাকা না হয় সেজন্য আমরা ইউনিক আইডির ব্যবস্থাও করেছি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী যেন অতিরিক্ত ওজনের না হয়ে যায় সেজন্য বিদ্যালয় নিশ্চয় কাজ করবে। তবে ভর্তির ক্ষেত্রে এ ধরণের নিয়ম কাম্য নয়। এটা তো সেনাবাহিনী নয়।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা করার বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যা খুবই দুঃখজনক। আত্মহত্যার বিভিন্ন কারণ থাকে। এজন্য কারণ জানা দরকার।

শুধু করোনার কারণে যে আত্মহত্যা হচ্ছে তা বলা ঠিক না। আমাদের উচিত প্রতিটি মৃত্যুর কারণ ভালো ভাবে খতিয়ে দেখা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক বহু কারণ থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, করোনার সময় অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটা ঠিক। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে আসছি। এজন্য দুই লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

Check Also

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ফল প্রকাশ দুপুরে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ‘ক’ ইউনিটের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার ফল আজ বুধবার দুপুরে প্রকাশ করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *