fbpx

সংবিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সংবিধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সংবিধান প্রধানত ৪ প্রকার-লিখিত,অলিখিত, সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয়

লিখিত সংবিধান নেই কয়েকটি দেশের। উল্লেখযোগ্য দেশ- যুক্তরাজ্য , নিউজিল্যান্ড, স্পেন, সৌদিআরব।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান ভারতের এবং ছোট সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রের। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয় যুক্তরাজ্য ও ভারতের সংবিধানের আলোকে।

বাংলাদেশের সংবিধান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
১৯৭২ সালের ৪ ঠা নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় একই বছরের ১৬ ডিসেম্বরে তা কার্যকর হয়।

মূল সংবিধান ইংরেজিতে রচিত এবং একে বাংলায় অনুবাদ করা হয়।তাই এটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতে বিদ্যমান।তবে ভাষার অর্থগত বিরোধ দৃশ্যমান হলে বাংলারুপ অনুসরণীয় হবে।এই ব্যাপারে ১৫৩(৩নং) অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

খসড়া সংবিধান উত্থাপনঃ ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ ( দ্বিতীয় অধিবেশন)
অনুমোদনঃ ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৭২
লেখকঃ ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রনয়ণ কমিটি।
স্বাক্ষরকারীঃ গণপরিষদ সদস্যগণ
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি। তিনি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন ২৩ মার্চ,১৯৭২।
রাষ্ট্রপতি কতৃক গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন আহবান ১০ এপ্রিল, ১৯৭২

সংবিধান রচনা কমিটিঃ-

কমিটি গঠনঃ ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ ( গণপরিষদের ১ম অধিবেশনের ২য় দিনে)
কমিটির সদস্য ৩৪ জন। কমিটির সভাপতি তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু।একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।

কমিটির প্রথম বৈঠক – ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২।
মোট বৈঠক করে-২৯ টি (১৭ এপ্রিল থেকে ৩ রা অক্টোবর পর্যন্ত)
১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে সংবিধানের জন্য জনগণের মতামত আহ্বান করা হয় এবং তা থেকে ৯৮ টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করেন ড. কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।গণপরিষদে উত্থাপিত হওয়ার পর ১২ অক্টোবর থেকে ৪ ঠা নভেম্বর পর্যন্ত সংবিধানের উপর সাধারণ আলোচনা হয়।

গণপরিষদ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ আলোচনায় তার বক্তৃতায় বলেন-” এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত।এই সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।

৪ ঠা নভেম্বর সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। এইজন্যই ৪ ঠা নভেম্বর সংবিধান দিবস।
১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর হস্তলিখিত সংবিধানে গণপরিষদের সদস্যরা স্বাক্ষর করেন। প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু। ২য় সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান বলবৎ হয়।

গণপরিষদের সদস্য ছিল -৪০৩ জন
পুস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করে -৩০৯ জন
গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়- ২৩ মার্চ, ১৯৭২।প্রধান উদ্দেশ্য -সংবিধান প্রনয়ণ।
প্রথম অধিবেশনের সভাপতি- মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ স্পীকার- শাহ আবদুল হামিদ, ডেপুটি স্পীকার – মোহাম্মদ উল্লাহ।

মূল সংবিধান ইংরেজিতে লেখার পর এর বাংলা ভাষারূপ পর্যোলোচনা করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা বিশেষজ্ঞ কমিটি।ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন কমিটির আহবায়ক। অন্য ২ সদস্য হলেন- সৈয়দ আলী আহসান ও ড. মাযহারুল ইসলাম।

সংবিধান অলংকরণের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার প্রধান ছিলেন- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। এই কমিটির অন্য সদস্যগণ ছিলেন- শিল্পী হাসেম খান, জনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক আলভী। শিল্পী হাসেম খান অলংকরণ করেছিলেন আর কারুকার্য -শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন।

হস্তলিাখিত সংবিধানের মূল লেখক শিল্পী আবদুর রউফ।হস্তলিখিত সংবিধান ৯৩ পাতার।এটি এখন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

গণপরিষদ ভবন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, সেখানে সংবিধান প্রনয়ণ কমিটির বৈঠকে সহযোগিতা করেন ব্রিটিশ আইনসভার খসড়া আইন প্রণেতা- আই গাথারি।

সংবিধান ছাপাতে ব্যয় হয়েছিল- ১৪ হাজার টাকা। ১৯৪৮ সালে তৈরী ক্র্যাবাট ব্রান্ডের দুটি অফসেট মেশিনে সংবিধানটি ছাপা হয়।

এই পর্যন্ত সংবিধান ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে।সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যর সম্মতির দরকার হয়। এ বিধান উল্লেখ আছে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে এবং ৭(খ) অনুচ্ছেদে।

সংবিধানে ৭ টি তফসিল, ১২ টি প্রধান বৈশিষ্ট্য, ১১ টি অধ্যায় এবং ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং আইন প্রনয়ণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে। সংবিধানের ব্যাখ্যাকারক- দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।

শেয়ার করুন বন্ধুদের

Check Also

সাধারণ জ্ঞান পর্ব ০৪

সাধারণ জ্ঞান পর্ব ০৪

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ১। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নতুন প্রধান: রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন …