শিক্ষার্থীদের ‘ড্রেন’ পরিস্কার করার মানসিকতা থাকতে হবে

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা আত্মসম্মানবোধ রোগে ভোগেন। তারা অনেক পেশাকেই সম্মানের চোখে দেখেন না। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় আমি নিজে ওয়েটারের কাজ করেছি।

এটি আমাদের দেশের অনেক মানুষের কাছে নিচু কাজ মনে হবে। ’তিনি আরও বলেন, ‘সকল শিক্ষার্থীকে ড্রেন পরিস্কার করার মানসিকতা থাকতে হবে।

একইসঙ্গে আবার দেশ পরিচালনার বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও কাজ করার দক্ষতা থাকতে হবে।’ আজ রোববার (৪ অক্টোবর) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির অনলাইন ক্লাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

উপমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাটা যেন মানুষের আভিজাত্য তৈরি করতে না পারে, আমাদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

কোনো কাজই ছোট না। একজন কৃষক শিক্ষার অভাবে কৃষিকাজ ঠিকভাবে করতে পারে না। কিন্তু একজন শিক্ষিত ব্যক্তি কৃষিকাজ করলে কৃষির ব্যাপক বিল্পব ঘটবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘আপনি দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে যা আয় করছেন আবার দেখবেন অনেকে কোনো কিছু পাশ না করেই তার চেয়ে বেশি উপার্জন করছেন।

শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কোনো পেশাকে খাট করা যাবে না। এখন সুযোগ অনেক বেশি। শুধু কাজে লাগাতে হবে।’অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

তিনি বলেন, ‘যেদিন ক্লাসে পাঠদান শুরু হবে তখনও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সহায়ক শিক্ষা হিসেবে চালু থাকবে।’ মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘এ বছর নতুন শিক্ষার্থীরা ক্লাস শুরু করছেন তাদের মনে রাখতে হবে তারা অসাধারণ ভাবে ক্লাসটি শুরু করছেন।

কারণ এ বছর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির জন্ম শত বছর।’ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে করোনার প্রভাবে যখন সাধারণ ছুটি শুরু হয়। তখন শিক্ষকদের কাছে থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ অনেক কঠিন ছিল।

ওই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী মহোদয় আমাদেরকে ডাক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এর ফলেই এইচএসসির ফল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফল প্রকাশের ৩০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে তাদের ফলাফল পৌঁছে গিয়েছে।

এর জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

Check Also

৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে যাচ্ছে এনটিআরসিএ

৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে যাচ্ছে এনটিআরসিএ

বেসরকারি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *