শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে গড়ালে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বা মাঝামাঝির দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হতে পারে।

কিন্তু তাও নিশ্চিত নন সংশ্লিষ্ট। তারা বলছেন ‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা বলছেন, কিছুদিনের শিক্ষা কার্যক্রমের চেয়ে জীবনের নিরাপত্তাই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্লাসে শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে পাঠদানের চিন্তা পরিহার করে ভিন্ন উপায় নিয়েই ভাবতে হবে।

কারণ যত কিছুই করা হোক ক্লাসে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া একজন শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে তার মাধ্যমে ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীদের ও পরিবারের মধ্যেও বাড়বে সংক্রমণ।

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণের শীর্ষস্থানীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে মহামারীর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে প্রমাণ করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ভয়ঙ্কর পরিণতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে সংগঠনটি। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

জুলাইয়ের মাঝামাঝি দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৯৭ হাজার শিশু। স্কুলে যাতায়াতের পথেই যে সংক্রমণ, প্রতিবেদনে তা নিশ্চিত করে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেতারের মাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান।

আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার পর দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান চালু রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকায় পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির এবারের সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করতে প্রস্তাব যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে অটোপ্রমোশন, সিলেবাস কমানোসহ আরও কিছু বিষয়ও থাকবে এ প্রস্তাবে।

সরকারের অনুমোদন পেলে এবার প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা নেয়া হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু শিক্ষার চেয়েও জীবনের মূল্য অনেক।

জীবনের ঝুঁকি রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে কোনোভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই। এটা ঠিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনাসামনি পাঠদানের সঙ্গে ভিন্ন কোনো কিছুর তুলনা হয় না। তারপরও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যা বর্তমানে যা চলছে তা বিকল্প সম্পূরক প্রক্রিয়া।’

প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এ মুহূর্তে অনলাইন পাঠের বিকল্প নেই, তাই এটিকেই শক্তিশালী করতে হবে। আমার মনে হয়, যদি ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে অংশ নিতে না পারে,

তাহলে ডিজিটাল বৈষম্য ঘটবে, যা কোনোভাবেই উচিত হবে না এবং তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে, শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্ন আসবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সংক্রমণের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে না। পরিস্থিতি ভালো হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে।

প্রসঙ্গত, করোনার ছোবলে শিক্ষাব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। এরই মধ্যে একাধিক বিকল্প নিয়ে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য এখনই সুনিশ্চিত কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা সম্ভব না। শিক্ষার দায়িত্বের থাকা মন্ত্রণালয়গুলোও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Check Also

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ২০২১ | প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় শিক্ষা বৃত্তি

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ২০২১ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড শিক্ষাবৃত্তি ২০২১ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *