বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলাদেশ বিষয়াবলি – বাংলার মধ্যযুগ – বাংলায় মুসলমান শাসন আমল ও বার ভুঁইয়া  

বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলাদেশ বিষয়াবলি    বাংলার মধ্যযুগ
বাংলায় মুসলমান শাসন আমল ও বার ভুঁইয়া  

⏺বাংলার মুসলমান শাসন

⏺ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
➡তেরো শতকের শুরুতে তুর্কী বীর ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।

➡তিনি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন।

➡ইতিহাসে তিনি বখতিয়ার খলজি নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর বংশ পরিচয় সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না।

➡তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কী, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।

➡১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনীতে আসেন।

➡অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানকার শাসনকর্তা হুসামউদ্দীনের অধীনে তিনি পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে নিযুক্ত হন।

➡বখতিয়ারের সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে হুসামউদ্দীন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। এখানে বখতিয়ার তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান। ভাগবত ও ভিউলি তার শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠে।

➡ তিনি দক্ষিণ বিহারে এক প্রাচীর ঘেরা দুর্গের মতো স’ানে আসেন এবং আক্রমণ করেন। প্রতিপক্ষ কোনো বাঁধাই দিল না। দূর্গ জয়ের পর তিনি দেখলেন যে দূর্গের অধিবাসীরা সকলেই মুন্ডিত মস্তক এবং দূর্গটি বইপত্রে ভরা। জিজ্ঞাসা করে তিনি জানতে পারলেন যে, তিনি এক বৌদ্ধ বিহার জয় করেছেন। এটি ছিল ওদন্দ বিহার বা ওদন্তপুরী বিহার। এ সময় হতেই মুসলমানেরা এ স’ানের নাম দিল বিহার। আজ পর্যন্ত তা বিহার নামে পরিচিত।

➡ বখতিয়ার খলজির নদিয়া জয়ের সঠিক তারিখ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে বর্তমানে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দই নদিয়া জয়ের তারিখ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

➡ তিনি লক্ষণাবতী অধিকার করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। এ লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।

➡ গৌড় বা লখনৌতি বিজয়ের দুই বছর পর বখতিয়ার খলজি তিব্বত অভিযানে বের হন। এ তিব্বত অভিযানই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সমর অভিযান।

➡১২০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। অনুমান করা হয় আলী মর্দান নামে একজন আমীর তাকে হত্যা করেছিল।

⏺বাংলায় তুর্কী শাসনের ইতিহাস
➡ বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি। এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

➡ ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন ‘বুলগাকপুর’। এর অর্থ ‘বিদ্রোহের নগরী’।
➡১২০৮ খ্রিস্টাব্দে দেবকোটের শাসনকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন হুসামউদ্দিন ইওয়াজ খলজি। দিল্লি  সহযোগিতায় দুই বছর পর ফিরে আসেন আলী মর্দান খলজি। ইওয়াজ খলজির স্বেচ্ছায় তাঁর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আলী মর্দান খলজি ১২১০ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং নিজের নাম নেন আলাউদ্দিন আলী মদার্ন খলজী।

➡ গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজি নাম নিয়ে স্বাধীন সুলতান হিসাবে বাংলা শাসন করেন। ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর তিনি বাংলার সুলতান ছিলেন।

⏺সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি
➡সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।

➡ শাসনকার্যের সুবিধার জন্য তিনি রাজধানী দেবকোট হতে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন।
➡ বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে ইওজ খলজিই নৌ-বাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন। রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য এর তিন পার্শ্বে গভীর ও প্রশস- পরিখা নির্মাণ করা হয়। বার্ষিক বন্যার হাত হতে লখনৌতি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য তিনি বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন।

➡আব্বাসীয় খলিফা আল-নাসিরের নিকট হতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজি স্বীকৃতিপত্র লাভ করেছিলেন। তখন কোনো মুসলিম শাসক খলিফার স্বীকৃতিপত্র বা ফরমান না পেলে ইসলামে তাকে বৈধ শাসক বলে স্বীকার করা হতো না।

➡ ইওজ খলজি শিল্প ও সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁরই পৃষ্ঠপোষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদ এবং আরও কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। ইওজ খলজির পৃষ্ঠপোষকতায় লখনৌতি মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।

➡ ১২৪৭ থেকে ১২৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন- বাংলা শাসন করেন জালালউদ্দিন মাসুদ জানি।

➡১২৬৯ খ্রিস্টাব্দে কারা প্রদেশের শাসনকর্তা তাজউদ্দিন আরসালান খান লখনৌতির সিংহাসনে বসেন। আরসালান খানের পর বাংলার শাসনকর্তা হন তাতার খান।

➡ তুঘরিল ছিলেন মামলুক তুর্কীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। উত্তর এবং পশ্চিম বাংলা ছাড়াও ঢাকা এবং ফরিদপুরের বেশ কিছু অঞ্চল তিনি অধিকারে আনেন।

⏺বাংলায় স্বাধীন সুলতানী শাসনের ইতিহাস
➡দিল্লির সুলতানগণ ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খিস্টাব্দ পর্যন- দুইশত বছর বাংলাকে তাঁদের অধিকারে রাখতে পারেননি। প্রথমদিকে দিল্লির সুলতানের সৈন্যবাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে। চেষ্টা করেছে বাংলাকে নিজের অধিকারে আনার জন্য। অবশেষে সফল হতে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছে। এ সময়ে বাইরের অন্য কোনো আক্রমণেরও তেমন সম্ভাবনা ছিলনা। তাই বাংলার সুলতানগণ স্বাধীনভাবে এবং নিশ্চিনে- এদেশ শাসন করতে পেরেছেন।

➡ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ইলিয়াস শাহী বংশের সুলতানদের হাতে বাংলা প্রথম সি’তিশীলতা লাভ করে।

⏺স্বাধীন সুলতানী আমল (১৩৩৮ খ্রিঃ – ১৫৩৮ খ্রিঃ)
➡ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।

➡বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন ‘ফখরা’ নামের একজন রাজকর্মচারী। প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং

➡‘ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ’ নাম নিয়ে সোনারগাঁওয়ের সিংহাসনে বসেন। এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলের।

➡ তিনি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন- সোনারগাঁও রাজত্ব করেন।

➡ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ তাঁর রাজসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কিছুটা বৃদ্ধি করেছিলেন।

➡তিনিই সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম জয় করেন।

➡চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত- একটি রাজপথ ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়।

➡ ফখরুদ্দিন পুত্র গাজী শাহ পিতার মৃত্যুর পর সোনারগাঁওয়ের স্বাধীন সুলতান হিসাবে সিংহাসনে বসেন এবং ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন- তিন বছর রাজত্ব করেন।

⏺ইলিয়াস শাহী বংশ
➡সোনারগাঁওয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখন করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলী মুবারক।

➡সিংহাসনে বসে তিনি ‘আলাউদ্দিন আলী শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন।

➡পরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন পান্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)।

➡আলী শাহ ক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

➡তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজী ইলিয়াস।

➡তিনি আলী শাহকে পরাজিত ও নিহত করে ‘শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ’ নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
➡এই রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহী বংশ। এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন। মাঝখানে কিছুদিনের জন্য হিন্দু রাজত্বের উত্থান ঘটেছিল।

➡ ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন।

➡১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করা হয়।

➡ ১৩৩৮ খিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে।

➡ সুলতান ফিরুজ শাহ তুঘলক ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৩৫৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তাঁর চেষ্টা ছিল বাংলাকে দিল্লির অধিকারে নিয়ে আসা।

➡ইলিয়াস শাহ দুর্ভেদ্য একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

➡ ইলিয়াস শাহ লখনৌতির শাসক হিসেবে বঙ্গ অধিকার করলেও তিনি দুই ভূখণ্ডকে একত্রিত করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন।

➡এ সময় হতেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী ‘বাঙালি’ বলে পরিচিত হয়।

➡ ইলিয়াস শাহ ‘শাহ-ই বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালি’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।

➡শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩ খ্রিঃ) বাংলার সিংহাসনে বসেন।

➡ সুলতান সিকান্দার শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র গিয়াসউদ্দিন ‘আজম শাহ’ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রি:) উপাধি গ্রহণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন।

➡চীনা সম্রাট ইয়াংলো তাঁর দরবারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। তিনিও শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে চীনা সম্রাটের নিকট মূল্যবান উপঢৌকন প্রেরণ করেন।

➡সুলতান গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ একজন ন্যায়বিচারক ছিলেন।

➡রিয়াজ-উস-সালাতীন গ্রন্থে’ তাঁর ন্যায় বিচারের এক অতি উজ্জ্বল কাহিনী বর্ণিত আছে।

➡পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ এর  পত্রালাপ হতো।

➡ গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ বঙ্গের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছেন।

➡তাঁর রাজত্বাকালেই প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর ‘ইউছুফ-জুলেখা’ কাব্য রচনা

⏺রাজা গণেশ ও হাবসী শাসন

➡ বাংলার ইতিহাসের দুইশত বছর (১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রিঃ) মুসলমান সুলতানদের স্বাধীন রাজত্বের যুগ। তথাপি এ দুইশত বছরের মাঝামাঝি অল্প সময়ের জন্য কিছুটা বিরতি ছিল।

➡ গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাইফুদ্দিন হামজা শাহ সিংহাসনে বসেন।
পরবর্তী ইলিয়াস শাহী বংশের শাসন

➡ অভিজাতবর্গ মাহমুদ নামে ইলিয়াস শাহের এক বংশধরকে ১৪৫২ খিস্টাব্দে গৌড়ের সিংহাসনে বসান। ইতিহাসে তিনি নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নামে পরিচিত।

➡১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁর পুত্র রুকনউদ্দিন বরবক শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন।

➡সুলতান রুকনউদ্দীন বরবক শাহ একজন মহাপন্ডিত ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন শিলালিপিতে নিজ নামে এবং বিভিন্ন রাজকীয় উপাধির সঙ্গে ‘আল-ফাজিল’ ও ‘আল-কামিল’⎯ এ দুটি উপাধির উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়।

➡বৃহস্পতি মিশ্র ছিলেন গীতগোবিন্দ টীকা, কুমারসম্ভব টীকা, রঘুবংশটীকা প্রভৃতি গ্রন্থের লেখক।
➡ ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ নামক বিখ্যাত বাংলা কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসু এ সময়ের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন।
➡ বরবক শাহ একজন প্রকৃত সৌন্দর্যরসিক ছিলেন। গৌড়ের ‘দাখিল দরওয়াজা’ নামে পরিচিত বিরাট ও সুন্দর তোরণটি বরবক শাহ্‌ই নির্মাণ করেছিলেন। এ আমলে চট্টগ্রামে এবং পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগঞ্জে দুটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।

➡ ১৪৭৪ খ্রিস্টাব্দে বরবক শাহ পরলোক গমন করেন। পরে তাঁর পুত্র সামসুদ্দিন আবু মুজাফফর ইউসুফ শাহ (১৪৭৪- ১৪৮১ খ্রিঃ) বাংলার সুলতান হন।
➡ বরবক শাহের ছোট ভাই হুসাইন ‘জালালউদ্দীন ফতেহ শাহ’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন (১৪৮১-১৪৮৭ খ্রিঃ)। তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন। কিন্তু এ সময় রাজদরবারে দুর্যোগ দেখা দেয়।

⏺হাবসী শাসন
➡ হাবসী নেতা সুলতান শাহজাদা ‘বরবক শাহ’ উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।

➡মালিক আন্দিল ‘সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। একমাত্র তাঁর তিন বছরের রাজত্বকালের (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রিঃ) ইতিহাসই কিছুটা গৌরবময় ছিল।

⏺হোসেন শাহী বংশ
➡ হাবসী শাসন উচ্ছেদ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন সৈয়দ হোসেন।

➡সুলতান হয়ে তিনি ‘আলাউদ্দিন হুসেন শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন। এভাবেই বাংলায় ‘হুসেন শাহী বংশ’ নামে এক নতুন বংশের শাসনপর্ব শুরু হয়।

➡ বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেনশাহী আমল (১৪৯৩-১৫৩৮ খ্রি:) ছিল সবচেয়ে গৌরবময় যুগ।
➡ সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।

➡ বঙ্গের সুলতানদের মধ্যে একমাত্র তিনিই পান্ডুয়া বা গৌড় ব্যতীত অন্যত্র রাজধানী স্থাপন করেন। হাবসী শাসনকালে গোলযোগ

➡ তিনি কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা ও ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশও তাঁর করায়ত্ত হয়। উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের কিছু অংশও তাঁর অধিকারে আসে।

➡ তিনি দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিঃ) রাজত্ব করেন। এ সুদীর্ঘ সময় সাফল্যের সাথে রাজ্য পরিচালনা করে এ মহান সুলতান ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

➡ আলাউদ্দীন হুসেন শাহ্‌ সুশাসক ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন। শাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং জনকল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি যথেষ্ট উদ্যম, নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

➡ তাঁর শাসনকালেই আবির্ভাব ঘটে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যের। হুসেন শাহ তাঁর প্রতি উদার মনোভাব পোষণ করতেন এবং তাঁকে ধর্ম প্রচারে সব রকমের সহায়তা করার জন্য কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশ দেন।

➡সত্যপীরের আরাধনা হুসেন শাহের শাসনকালের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সত্যপীরের আরাধনা হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল প্রচেষ্টা।

➡ হুসেন শাহ যোগ্য কবি ও সাহিত্যিকগণকে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার প্রদান করতেন।

➡এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে
রূপ গোস্বামী,
সনাতন গোস্বামী,
মালাধর বসু,
বিজয়গুপ্ত,
বিপ্রদাস,
পরাগল খান ও
যশোরাজ খান উল্ল্যেখ যোগ্য ছিলেন।

➡হুসেন শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁরা অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁদের নিরলস সাহিত্য-কীর্তি বাংলার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

➡ মালাধর বসু ‘শ্রীমদ্ভাগবৎ’ ও ‘পুরাণ’ এবং পরমেশ্বর ‘মহাভারত’ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।

➡আলাউদ্দীন হুসেন শাহ আরবী ও ফার্সী ভাষারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

➡তাঁর শাসনকালকে বঙ্গের মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়।

➡আলাউদ্দিন হুসেন শাহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র নুসরত শাহ ‘নাসিরউদ্দিন আবুল মুজাফফর নুসরত শাহ’ (১৫১৯- ১৫৩২ খ্রিঃ) উপাধি নিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসেন। তাঁর দক্ষতা দেখে হুসেন শাহ তার রাজত্বকালেই শাসনকার্যের কিছু কিছু ক্ষমতা নুসরত শাহকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

➡ বাগেরহাটের ‘মিঠা পুকুর’ আজও তার কীর্তি ঘোষণা করছে।

➡তিনি একটি মঞ্চ নির্মাণ করেন। তাঁর উপর হযরত মুহম্মদের (দঃ) পদচিহ্ন সম্বলিত একটি কালো কারুকার্য খচিত মর্মর বেদি বসানো হয়।

➡গৌড়ের সুবিখ্যাত ‘বড় সোনা মসজিদ’ বা ‘বারদুয়ারী মসজিদ’ তাঁর আমলের কীর্তি।

➡ নুসরত শাহ্‌ গৌড়ের অদূরে পিতার সমাধি নির্মাণ করেছিলেন।

➡ নুসরত শাহের আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের কিয়দংশ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।

➡তাঁর শাসনকালেই শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধপর্বের বঙ্গানুবাদ করেন।

➡ শ্রীধরও মহাভারতের বঙ্গানুবাদ করেছিলেন। জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারের জন্য নুসরত শাহ্‌ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাইব্রেরীও স্থাপন করেছিলেন।

➡ বাংলার পরবর্তী সুলতান ছিলেন নুসরত শাহের পুত্র আলাউদ্দিন ফিরুজ শাহ।

➡১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের শাহ গৌড় দখল করলে বাংলার দুইশত বছরের স্বাধীন সুলতানী যুগের অবসান ঘটে।

⏺আফগান শাসন ও বারভূঁইয়া (১৫৩৮ খ্রি: – ১৫৭৬ খ্রিঃ)
➡ ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হলে একে একে বিদেশি শক্তিসমূহ গ্রাস করতে থাকে বাংলাকে। মুঘল সম্রাট হুমায়ুন অল্প কিছুকাল বাংলার রাজধানীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।

⏺আফগান শাসন
➡ শেরখান ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে দু’বার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন। এবার সতর্ক হন দিল্লির মুঘল সম্রাট হুমায়ুন।

➡ গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন ‘জান্নাতবাদ’। সম্রাট গৌড়ে ৬ মাস আমোদ ফূর্তিতে গা ভাসিয়ে দেন।

➡ মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি নেন।

➡ তিনি নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন। এবার বাংলার দিকে দৃষ্টি দেন তিনি।

➡১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন। এ বছরই তিনি হুমায়ুনকে কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিলি- সিংহাসন অধিকার করেন।
➡ শের শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র জালাল খান ‘ইসলাম খান’ নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

⏺বার ভূঁইয়াদের ইতিহাস
➡ সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলার উপর তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। বাংলার বড় বড় জমিদাররা মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি। জমিদারগণ তাঁদের নিজ নিজ জমিদারীতে স্বাধীন ছিলেন। এদের শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর ছিল। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এঁরা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণ ‘বার ভূঁইয়া’ নামে পরিচিত। এ ‘বার’ বলতে বারজনের সংখ্যা বুঝায় না। ধারণা করা হয় অনির্দিষ্ট সংখ্যক জমিদারদের বোঝাতেই ‘বার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

➡ বাংলার ইতিহাসে বার ভূঁইয়াদের আবির্ভাব ষোড়শ শতকের মধ্যবর্তীকাল হতে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে।

⏺বার ভূইয়াদের নাম  ও তাদের এলাকার নাম

➡ঈসা খান, মূসা খান >> ঢাকা জেলার অর্ধাংশ, প্রায় সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা এবং পাবনা, বগুড়া ও  রংপুর জেলার কিছু অংশ
➡চাঁদ রায় ও কেদার রায় >> শ্রীপুর (বিক্রমপুর, মুন্সীগঞ্জ)
➡বাহাদুর গাজী>> ভাওয়াল
➡সোনা গাজী >>সরাইল (ত্রিপুরার উত্তর সীমায়)
➡ওসমান খান >>বোকাইনগর (সিলেট)
➡বীর হামির >>বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
➡লক্ষণ মাণিক্য>> ভুলুয়া (নোয়াখালী)
➡পরমানন্দ রায় >চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
➡বিনোদ রায়, মধু রায় চান্দপ্রতাপ> (মানিকগঞ্জ)
➡মুকুন্দরাম, সত্রজিৎ ভূষণা >>ফরিদপুর)
➡রাজা কন্দর্পনারায়ণ, রামচন্দ্র >> বরিশাল জেলার অংশ বিশেষ

➡ প্রথম দিকে বার ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
➡হুসেন শাহী বংশের অবসান হলে ঈসা খানের পিতা সুলায়মান খান সোনারগাঁও অঞ্চলে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন।

➡ খিজিরপুর দুর্গ ছিল তাঁর শক্তির প্রধান কেন্দ্র। সোনারগাঁও ও খিজিরপুরের নিকটবর্তী কাত্‌রাবু তাঁর রাজধানী ছিল।

➡দাউদ কররাণীর পতনের পর তিনি সোনারগাঁও-এ রাজধানী স্থাপন করেন।

➡ বার ভূঁইয়াদের দমন করার জন্য সম্রাট আকবর বিশেষ মনোযোগ দেন। এজন্য তিনি ১৫৮৩ খ্রিস্টাব্দে শাহবাজ খান, ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে সাদিক খান, ১৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে উজির খান ও ১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে রাজা মানসিংহকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান। তাঁরা ঈসা খাঁন ও অন্যান্য জমিদারের সাথে বহুবার যুদ্ধ করেন। কিন্তু বার ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকারের বিনিময়ে নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। অন্যদিকে তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ‘মসনদ-ই-আলা’ উপাধি ধারণ করেছিলেন।

➡ ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে ঈশা খানের মৃত্যু হলে বার ভূঁইয়াদের নেতা হন তাঁর পুত্র মূসা খান।

➡এদিকে ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহকে দ্বিতীয়বারের মত বাংলায় পাঠানো হয়। এবার মানসিংহ কিছুটা সফল হন।

➡১৬০৩ খ্রিস্টাব্দে মূসা খান এক নৌ-যুদ্ধে মানসিংহের হাতে পরাজিত হন। কিন্তু চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করার আগে সম্রাট আকবরের অসুস’তার খবর আসে। সম্রাটের ডাকে মানসিংহ আগ্রায় ফিরে যান।

➡ সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সেলিম ‘জাহাঙ্গীর’ নাম ধারণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণী করেন।

➡ তিনি মানসিংহকে আবার বাংলায় প্রেরণ করেন।

➡এক বছর পর ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে কুতুবুদ্দীন কোকাকে বাংলার সুবাদার নিয়োগ করা হয়।

➡ কুতুবুদ্দীন শের আফকুনের হাতে প্রাণ হারান। তাঁর পরবর্তী সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলীখান এক বছর পর মারা যান।
➡এর পর ইসলাম খান ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গের সুবাদার নিযুক্ত হন।

➡বাংলার বার ভূঁইয়াদের দমন করে এদেশ মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কার্য।

➡আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদর ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি:)। শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বার ভূঁইয়াদের নেতা মূসা খানকে দমন করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারদেরকে বশীভূত করা সহজসাধ্য হবে। সেজন্য তিনি রাজমহল হতে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ, মূসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁও ঢাকার অদূরে ছিল। বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান বেশ কজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।

➡বার ভূঁইয়াদের মোকাবেলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌ-বহর গড়ে তোলেন। মূসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাঁধে ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে। এখানে মূসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে মূসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন।

➡ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।

➡সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় ‘জাহাঙ্গীর নগর’।

⏺মুঘল শাসন (১৫৭৬-১৭৫৭ খ্রিঃ)
➡সুবাদারি ও নবাবি- এ দুই পর্বে বাংলায় মুঘল শাসন অতিবাহিত হয়। বার ভূঁইয়াদের দমনের পর সমগ্র বাংলায় সুবাদারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

➡ মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল। বাংলা ছিল মুঘলদের অন্যতম সুবা।

➡ সতের শতকের প্রথম দিক থেকে আঠার শতকের শুরু পর্যন্ত ছিল সুবাদারী শাসনের স্বর্ণযুগ।

➡ সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দিল্লির দুর্বল উত্তরাধিকারীদের সময়ে মুঘল শাসন শক্তিহীন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।

➡মুঘল আমলের এই যুগ ‘নবাবী আমল’ নামে পরিচিত।

⏺সুবেদারী ও নবাবী আমল
➡সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বার ভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কজন সুবাদার বাংলার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে সুবাদার মীর জুমলা ক্ষমতা গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোন সুবাদারই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেননি।

➡এঁদের মধ্যে ইসলাম খান চিশতি (১৬১৭-১৬২৪ খ্রিঃ) এবং দিল্লির সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাই ইব্রাহিম খান ফতেহ জঙ্গ (১৬১৭-১৬২৪খ্রিঃ) বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতপর খুব অল্প সময়ের জন্য সুবাদার নিযুক্ত হন দারার খান, মহব্বত খান, মুকাররম খান এবং ফিতাই খান।

➡সম্রাট শাহজাহান ক্ষমতা গ্রহণ করার পর বাংলার সুবাদার হিসেবে কাসিম খান জুয়িনীকে নিয়োগ করেন ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে। হুসেন শাহী যুগ হতেই বাংলায় পর্তুগীজরা বাণিজ্য করত। এ সময় পর্তুগীজ বণিকদের প্রতিপত্তি অনেক বেড়ে যায়। ক্রমে তা বাংলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কাসিম খান জুয়িনী শক্ত হাতে পর্তুগীজদের দমন করেন।

➡কাসিম খানের পর সুবাদার ইসলাম খান মাসহাদী (১৬৩৫-১৬৩৯ খ্রিঃ) চার বছর শাসন করেন।

➡অতঃপর শাহজাহান তাঁর দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজাকে বাংলার সুবাদার করে পাঠান। সুজা কুড়ি বছর দায়িত্বে ছিলেন। মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল সুজার শাসনকাল। বিদেশি বণিক গোষ্ঠীর মধ্যে ইংরেজরা এ সময় সুবাদারের কাছ থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা লাভ করছিল। এতে বাণিজ্যের পাশাপাশি ইংরেজদের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
➡১৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর চার পুত্রের প্রত্যেকেই সম্রাট হওয়ার জন্য বিদ্রোহ করে। এ সময় আওরঙ্গজেবের সাথে শাহ সুজার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দুই ভাইয়ের যুদ্ধে ১৬৫৯ খিস্টাব্দে শাহ সুজা পরাজিত হন। পরাজিত হয়ে তিনি আরাকান গমন করেন। সেখানে পরে তিনি সপরিবারে নিহত হন।

➡আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা সুজাকে দমন করার জন্য বাংলার রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর পর্যন্ত এসেছিলেন। তাই সম্রাট আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে (১৬৬০-১৬৬৩ খ্রিঃ) বাংলার সুবাদারের দায়িত্ব দেন। অহমদের বিরুদ্ধে তাঁর সাফল্য তেমন উলে- যোগ্য না হলেও কুচবিহার ও আসাম বিজয় মীর জুমলার সামরিক প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। তাঁর সময়েই কুচবিহার সম্পূর্ণরূপে প্রথমবারের মতো মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। আসাম অভিযানের দ্বারা তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সীমান্ত আসাম পর্যন্ত বর্ধিত করেন।

➡মীর জুমলার মৃত্যুর পর প্রথমে দিলির খান ও পরে দাউদ খান অস্থায়ী সুবাদার হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
➡অতপর আওরঙ্গজেবের মামা শায়েস্তা খানকে (১৬৬৪-১৬৮৮ খ্রিঃ) বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

➡মাঝখানে ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এরপর ১৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বাংলার সুবাদার হন।

➡শায়েস্তা খান ছিলেন একজন সুদক্ষ সেনাপতি ও দূরদর্শী শাসক। তিনি মগদের উৎপাত হতে বাংলার জনগণের জানমাল রক্ষা করেন।

➡তিনি সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানী জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন। সুবাদার শায়েস্তা খান কুচবিহার, কামরূপ, ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চলে মুঘল শাসন সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়।

➡তাঁর ভয়ে আসামের রাজা মুঘলদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করতে সাহস পাননি।

⏺সুবাদারীর চিত্র : শায়েস্তা খানশেষ দিকে শায়েস্তা খানের সাথে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরোধ বাঁধে। ইংরেজদের ক্ষমতা এত বৃদ্ধি পেতে থাকে যে তারা ক্রমে এদেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর শায়েস্তা খান বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন। শায়েস্তা খানের পর একে একে খান-ই-জাহান বাহাদুর, ইব্রাহিম খান ও আজিমুদ্দিন বাংলার সুবাদার হন। তাঁদের সময় বাংলার ইতিহাস তেমন ঘটনাবহুল ছিলনা।

➡শায়েস্তা খান তাঁর শাসন আমলের বিভিন্ন জনহিতকর কার্যাবলীর জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তাঁর সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র অসংখ্য সরাইখানা, রাস্তা ও সেতু নির্মিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতি ও কৃষি ক্ষেত্রে তিনি অভাবিত সমৃদ্ধি আনয়ন করেছিলেন। জনকল্যাণকর শাসনকার্যের জন্য শুধু বাংলায় নহে, সমগ্র ভারতবর্ষেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
➡ তাঁর সময়ে দ্রব্য মূল্য এত সস্তা ছিল যে, টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যেত।

➡শায়েস্তা খানের আমলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূলে ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার। এ আমলে কৃষি কাজের সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়। শায়েস্তা খান ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশী বণিকদিগকে উৎসাহিত করতেন।

➡শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। বিচিত্র সৌধমালা, মনোরম সাজেখ সজ্জিত তৎকালীন ঢাকা নগরী স্থাপত্য শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের সাক্ষ্য বহন করে।
➡স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। তাঁর আমলে নির্মাণ করা স্থাপত্য কার্যের মধ্যে ছোট কাটরা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরীর সমাধি-সৌধ, হোসেনী দালান, সফী খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চকা মসজিদ প্রভৃতি উলে- যোগ্য।

➡মোটকথা, অন্য কোনো সুবাদার বা শাসনকর্তা ঢাকায় শায়েস্তা খানের ন্যায় নিজের স্মৃতিকে এত বেশি জ্বলন্ত রেখে যেতে পারেননি। বস্তুত, ঢাকা ছিল শায়েস্তা খানের নগরী।

➡দক্ষ সুবাদার হিসাবে এবার বাংলার ক্ষমতায় আসেন মুর্শিদ কুলী খান (১৭০০-১৭২৭ খ্রিঃ)।

➡প্রথমে তাঁকে বাংলার দিউয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
➡দিউয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।

➡সম্রাট ফখরুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদ কুলী খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। মুর্শিদ কুলী খান যখন বংলায় আগমনণ করেন তখন বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। এ পরিসি’তির মুখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সহিত বাংলায় মুঘল শাসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হন। স্বীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তিনি বাংলার ইতিহাসের গতিকে পরিবর্তিত করেছিলেন।

➡সম্রাট আওঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মুঘল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেননি। ফলে এসব অঞ্চলের সুবাদারগণ অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের অঞ্চল শাসন করতে থাকেন।

➡মুর্শিদ কুলী খানও অনেকটা স্বাধীন হয়ে পড়েন। তিনি নামমাত্র সম্রাটের আনুগত্য প্রকাশ করতেন।

➡বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন। মুর্শিদ কুলী খানের পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খান বাংলার সিংহাসনে বসেন। এভাবে বাংলার সুবেদারি বংশগত হয়ে পড়ে। আর এরই পথ ধরে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলার স্বাধীন শাসন।

➡নবাব মুর্শিদ কুলী খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে।

➡ এ সময় সুবাকে বলা হতো ‘নিজামত’ আর সুবাদারের বদলে পদবী হয় ‘নাজিম’।

➡ নাজিম পদটি হয়ে পড়ে বংশগত। সুবাদার বা নাজিমগণ বাংলার সিংহাসনে বসে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে শুধু একটি অনুমোদন নিয়ে নিতেন। তাই

➡আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত। আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন ‘নবাব’ হিসেবে।

➡রাজস্ব সংস্কার মুর্শিদ কুলী খানের সর্বাধিক স্মরণীয় কীর্তি। তিনি ভূমি জরিপ করে রায়তদের সামর্থ্য অনুযায়ী রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন। রাজস্ব আদায়কে নিশ্চিত ও নিয়মিত করার জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি কর্মচারীদের সাহায্যে ভূমির প্রকৃত উৎপাদিকা শক্তি ও বাণিজ্য করের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতেন। এ পদ্ধতিতে মধ্যস্থ ব্যক্তিদের দ্বারা প্রজাদের হয়রানির কোনো সুযোগ ছিল না।

➡মুর্শিদ কুলী খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসী ও পারসিক ব্যবসায়ীদেরকে তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করা না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশি-ষ্ট কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারিত হয়েছিল।

➡কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশী বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে।

➡মুর্শিদ কুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিলনা। তাই তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নিসার স্বামী সুজাউদ্দিন খানকে (১৭২৭- ১৭৩৯ খ্রিঃ) সম্রাট ফররুখ শিয়ার বাংলার সুবাদার নিয়োগ করেন।
সুজাউদ্দিন একজন স্বাধীন নবাবের মর্যাদা নিয়ে সিংহাসনে বসেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ শাসক। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা- তিন প্রদেশেরই নবাব হয়েছিলেন তিনি। তিনি তাঁর আত্মীয়স্বজন ও বিশ্বাসভাজনদের উচ্চপদ দান করেন। জমিদারদের সাথেও একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু সুজাউদ্দিনের শেষ জীবন সুখে কাটেনি। প্রাসাদের অনেক কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। কিন্তু দক্ষ হাতে তিনি সংকট মোকাবিলা করেন।

➡সুজাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সরফরাজ খান বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব হন। তাঁর অযোগ্যতার কারণে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

➡ এ সুযোগে বিহারের নায়েব-ই-নাজিম আলীবর্দী খান সরফরাজকে আক্রমণ করেন। সরফরাজ পরাজিত ও নিহত হন।
➡মুঘল সম্রাটের অনুমোদনে নয়, বাহুবলে বাংলার ক্ষমতা দখল করেন আলীবর্দী খান। আলীবর্দীর শাসনকালে (১৭৪০-১৭৫৬ খ্রি:) বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

➡অনেকদিন থেকেই বর্গী নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।

➡আলীবর্দী খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর প্রতিরোধ করে বর্গীদের দেশ ছাড়া করতে সক্ষম হন। তাঁর শাসনকালে আফগান সৈন্যরা বিদ্রোহ করলে তিনি শক্ত হাতে তা দমন করেন। আলীবর্দীর সময়ে ইংরেজসহ অনেক ইউরোপীয় বণিকের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাংলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে এরা সামরিক শক্তিও সঞ্চয় করতে থাকে। আলীবর্দী খান শক্ত হাতে বণিকদের তৎপরতা রোধ করেন।

➡আলীবর্দী খান তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে তাঁর উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
➡আলীবর্দীর প্রথম কন্যা ঘষেটি বেগমের ইচ্ছে ছিল তাঁর দ্বিতীয় ভগ্নির পুত্র শওকত জঙ্গ নবাব হবেন। ফলে তিনি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। কয়েকজন অভিজাতের সমর্থন লাভ করেন ঘষেটি বেগম। এদের মধ্যে রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ, মীরজাফর, উমিচাঁদ, রাজবল্লি প্রমুখের নাম করা যায়। প্রাসাদের ভেতর এ ষড়যন্ত্রকে কাজে লাগায় বাংলায় বাণিজ্য করতে আসা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুচতুর ইংরেজ বণিকরা। ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে তারা হাত মেলায়।

➡অবশেষে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ বাধে নবাবের। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধে অংশগ্রহণে বিরত থাকেন। অসহায়ভাবে পরাজয় ঘটে সিরাজউদ্দৌলার। এভাবেই পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। আর একই সাথে বাংলার মধ্যযুগেরও অবসান ঘটে।

➡সংকলন – মোস্তাফিজার মোস্তাক

➖➖➖➖➖???➖➖➖➖➖➖

Check Also

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক প্রশ্ন : রেডিও কে আবিষ্কার করেন? উত্তর: মার্কনি। প্রশ্ন : …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *