বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলা প্রস্তুতিঃ পর্ব-২

বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলা প্রস্তুতিঃঃ পর্ব-২

প্রাচীন যুগ-২  

শহীদুল্লাহর মতে, প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম চর্যাকার সরহ বা ভুসুকুপা।

➡কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩টি পদ রচনা করেন

➡দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ লেখেন-ভুসুকুপা: ৮টি।

➡শবরপাকে চর্যাপদের বাঙালি কবি মনে করা হয়

➡চর্যাপদ মাত্রাবিত্ত ছন্দে রচিত

➡চর্যাপদ গ্রন্থে মোট পদ পাওয়া গেছে-সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খন্ডিত অংশসহ)।

➡চর্যার পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত।

➡সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা-যে ভাষা সুনির্দিষ্ট রূপ পায় নি, যে ভাষার অর্থও একাধিক অর্থাৎ আলো-আঁধারের মত,সে ভাষাকে পন্ডিতগণ সন্ধ্যা বা সান্ধ্যভাষা বলেছেন।

➡চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লেখা-লুইপার।

➡ চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

➡নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করা হয়।

➡১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
➡সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

➡ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০খ্রিস্টাব্দ থেকে, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত।
➡সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

➡চর্যাপদের নাম নিয়ে প্রস্তাবগুলো -কারো মতে গ্রন্থটির নাম, ‘আশ্চর্যচর্যাচয়’,
➡ সুকুমার সেনের মতে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়,
➡ আধুনিক পন্ডিতদের মতে এর নাম ‘চর্যাগীতিকোষ’
➡আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে ‘চর্য্যার্চয্যবিনিশ্চয়’।

➡তবে ‘চর্যাপদ’ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম।

➡চর্যার কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন বলে মনে করা হয়-শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ)।

➡চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা -কাহ্নপা।
➡ চর্যাপদে যে পদগুলো পাওয়া যায় নি তার মধ্যে কাহ্নপার রচনা বলে মনে করা হয়-২৪ নং পদটি।

➡ চর্যাপদে কাহ্নপা আর নাম পাওয়া যায়-কাহ্নু, কাহ্নি, কাহ্নিল, কৃষ্ণচর্য,কৃষ্ণবজ্রপাদ।

➡অনেকের মতে কুক্কুরীপা নারী ছিলেন।

➡কুক্কুরীপা রচিত অতিপরিচিত দুটি পংক্তি -দিবসহি বহূড়ী কাউহি ডর ভাই।রাতি ভইলে কামরু জাই। (পদ:২) (অর্থাৎদিনে বউটি কাকের ভয়ে ভীত হয় কিন্তু রাত হলেইসে কামরূপ যায়।)

➡লুইপা ছিলেন-প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদেরকবি।
➡তিববতী ঐতিহাসিক লামা তারনাথের মতে লুইপা পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
➡হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে লুইপা রাঢ়অঞ্চলের লোক।

➡চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা লুইপার।

➡কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল\ (পদ: ১) ( অর্থাৎ দেহগাছের মত, এর পাঁচটি ডাল। চঞ্চল মনে কালপ্রবেশ করে।)

➡লুইপা রচিত সংস্কৃতগ্রন্থের নাম পাওয়া যায়, – ৫টি। অভিসময় বিভঙ্গ, বজ্রস্বত্ব সাধন, বুদ্ধোদয়, ভগবদাভসার, তত্ত্ব সভাব।

➡ শবরপা -তার জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। সেই সূত্রে শবরপা চর্যারকবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন।

➡ মুহুম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি ‘বাংলা দেশে’র লোক।
➡শবরপা গুরু ছিলেন-লুইপার।

বাংলা  মধ্যযুগ পরবর্তী পর্বে দেখুন

সংকলন- মোস্তাফিজার মোস্তাক

 

Check Also

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক

বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার ও আবিষ্কারক প্রশ্ন : রেডিও কে আবিষ্কার করেন? উত্তর: মার্কনি। প্রশ্ন : …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *