fbpx

বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলা প্রস্তুতি

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ     

➡ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-র মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যপ্তিকাল ছিল ৬৫০খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

➡ডক্টর সুনীতিকুমারের মতে এর সময়কাল ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

সাহিত্যকর্মঃ
➡প্রাচীন যুগে বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যের একমাত্র ও আদিতম নিদর্শন হল চর্যাপদ।

➡ খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত চর্যা পদাবলি ছিল সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের সাধনসংগীত বা গানের সংকলন।

➡ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বৌদ্ধ ধর্মের সাধন প্রণালী ও দর্শন তত্ত্ব।আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিকগণ বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণের সাহায্যে প্রমাণ করেছেন যে চর্যার ভাষা প্রকৃতপক্ষে হাজার বছর আগের বাংলা ভাষা।
সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্র এই পদগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাহিত্যমূল্যের বিচারে কয়েকটি পদ কালজয়ী।এটি আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

⏺চর্যাপদ
➡অনেক প্রাচীন সাহিত্যকর্ম হলেও এটির আবিষ্কার খুব বেশিদিন আগের কথা না।

➡১৯০৭ খ্রীস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা “রয়েল লাইব্রেরি” থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।

➡মূলত ১৮৮২ সালে রাজা রাজেদ্র লাল মিত্র “Sanskrit Buddhist Literature in Nepal” গ্রন্থে চর্যাপদের অস্তিত্বের কথা বলেছিলেন। আর সেই সূত্র ধরে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কারে উদ্দীপ্ত হন। চর্যাপদের সাথে ‘ডাকার্ণব’ এবং ‘দোহাকোষ’ নামে আরো দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়।

➡১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায়  বৌদ্ধগান এবং দোহা’ নামে প্রকাশ করেন..পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে বাংলা ১৩২৩ বঙ্গাব্দ কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

➡বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কাবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন..ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে ‘চর্যাচর্য বিনিশ্চয়’ নামক পুথিটি আবিষ্কার করেন।

➡এটি প্রকাশিত হবার পর পালি সংস্কৃত সহ বিভিন্ন ভাষাবিদ রা চর্যাপদকে নিজ নিজ ভাষার আদি নিদর্শন বলে দাবী করেন।

➡এসব দাবী মিথ্যা প্রমাণ করেন ড. সুনীতি কুমার চট্রোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে The Origin and Development of Bengali Language গ্রন্থে চর্যাপদ এর ভাষা বিষয়ক গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন।

➡১৯২৭ সালে শ্রেষ্ঠ ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চর্যাপদের ধর্মতত্ব বিষয়ক গবেষণা করেন এবং প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলাসাহিত্যের আদি নিদর্শন।

➡অনেকের মতে, চর্যাপদের আদিকবি লুইপা।

➡চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ছিল ৫১ টি।

➡ডঃ শহীদুল্লাহ বলেছেন ৫০টি।
তবে ৫১টি সর্বজন স্বীকৃত।

➡এক একটি পদ সাধারণত সাধারণত ১০টি লাইন সহযোগে গঠিত।

➡শুধুমাত্র ২১নং পদে লাইনসংখ্যা ৮টি এবং ৪৩ নং পদে লাইন সংখ্যা ১২টি।

➡চর্যাপদের ৫১টি পদের মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গিয়েছে,বাকি সাড়ে চারটি পদপাওয়া যায় নি।
➡অনাবিষ্কৃত পদগুলি হল ১১,২৩,২৪,২৫,৪৮।

➡এদের মধ্যে ২৩ তম পদের প্রথম ৬টি লাইন পাওয়া গিয়েছে বাকি ৪টি পাওয়া যায় নি।

➡চর্যাপদের প্রথম পদ __” কা আ তরুবর পঞ্চ বি ডাল”

⏹চর্যার কবিঃ
আবিষ্কৃত পুঁথিটিতে ৫১টি চর্যায় মোট ২৪ জন সিদ্ধাচার্যের নাম পাওয়া যায়।

➡এঁরা হলেন: লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কাম্বলাম্বর, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, শবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জঅনন্দি, ধাম, তান্তী পা, লাড়ীডোম্বী।

➡চর্যার পদকর্তাগণের নামের শেষে সন্মানসূচক পা যোগ করা হয় যেমনঃলুইপা,শবরপা ইত্যাদি।

➡চর্যাপদের আদি কবি বা সিদ্ধাচার্য হিসেবে ধরা হয় লুইপাকে।

➡কিন্তু ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু তাই চর্যার প্রাচীন কবি শবরপা-ই হবেন।

➡এই পুঁথিতে লাড়ী ডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি তাই তাকে চর্যাপদের নামে মাত্র কবি বলা হয়।

➡একমাত্র অনুমিত মহিলা কবি বলা হয় কুক্কুরীপাকে।

⏺চর্যাপদে কবির সংখ্যাঃ

➡চর্যাপদে মোট ২৪জন কবি পাওয়া যায়

➡১ জন কবির পদ পাওয়া যায়নি তার নাম – তন্ত্রীপা / তেনতরীপা

➡সেই হিসেবে পদ প্রাপ্ত কবির মোট সংখ্যা ২৩ জন

➡উল্লেখযোগ্য কবিঃ
১. লুইপা ২. কাহ্নপা ৩. ভুসুকপা ৪. সরহপা ৫. শবরীপা ৬. লাড়ীডোম্বীপা ৭. বিরূপা ৮. কুম্বলাম্বরপা ৯. ঢেন্ডনপা ১০. কুক্কুরীপা ১১. কঙ্ককপা

➡কবিদের নাম শেষে পা দেওয়ার কারণঃ
পদ > পাদ > পা
পাদ > পদ > পা

➡পদ রচনা করেন যিনি তাদেরকে পদকর্তা বলা হত যার অর্থ সিদ্ধাচার্য / সাধক [এরা বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের সাধক ছিলেন]

➡২ টি কারণে নাম শেষে পা দেওয়া হতঃ
১. পদ রচনা করতেন
২. সম্মান / গৌরবসূচক কারনে

➡লুইপাঃ
১. চর্যাপদের আদিকবি
২. রচিত পদের সংখ্যা ২ টি

➡কাহ্নপাঃ
১. কাহ্নপার রচিত মোট পদের সংখ্যা ১৩ টি –তিনি সবচেয়ে বেশী পদ রচয়ীতা
২. উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ১২ টি
৩. তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি

➡ভুসুকপাঃ
১. পদসংখ্যার রচনার দিক দিয়ে ২য়
২. রচিত পদের সংখ্যা ৮টি
৩. তিনি নিজেকে বাঙ্গালী কবি বলে দাবী করেছেন
৪. তার বিখ্যাত কাব্যঃ অপনা মাংসে হরিণা বৈরী অর্থ – হরিণ নিজেই নিজের শত্রু

➡সরহপাঃ
১. রচিত পদের সংখ্যা ৪ টি

➡শবরীপাঃ
১. রচিত পদের সংখ্যা ২ টি
২. গবেষকগণ তাকে বাঙ্গালী কবি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন
৩. বাংলার অঞ্চলে ভাগীরথী নদীর তীরে বসবাস করতেন বলে ধারণা করা হয়। যদি তিনি ভাগীরথী নদীর তীরে বসবাস না করতেন তাহলে বাঙ্গালী কবি হবেন না।

➡কুক্কুরীপাঃ
১. রচিত পদের সংখ্যা ২ টি
২. তার রচনায় মেয়েলী ভাব থাকার কারণে গবেষকগণ তাকে মহিলা কবি হিসেবে সনাক্ত করেন।

➡তন্ত্রীপাঃ
১. উনার রচিত পদটি পাওয়া যায় নি।
২. উনার রচিত পদটি ২৫ নং পদ।

➡ঢেন্ডনপাঃ
ঢেন্ডনপা রচিত পদে তৎকালীন সমাজপদ রচিত হয়েছে।
তিনি পেশায় তাঁতি।
(টালত মোর ঘর নাই পড়বেশী
হাঁড়িতে ভাত নাই নিতি আবেশী)

👉নোট — মোস্তাফিজার মোস্তাক

শেয়ার করুন বন্ধুদের

Check Also

বিসিএস প্রিলিমিনারি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- আন্তর্জাতিক রাজনীতি(MCQ)

বিসিএস প্রিলিমিনারি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি আন্তর্জাতিক রাজনীতি-MCQ 101.  দ্য বেল্ট এন্ড রােড ইনিশিয়েটিভ ‘ পরিকল্পনাকারী কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *