fbpx

বন্যার্তদের মাঝে মানবিক আপেল

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা; একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যা। এ যেন মরার উপর খরার ঘা। ক্রমেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন যেমন বাড়ছে তেমনি বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। বলছিলাম মানিকগঞ্জ বাসীর কথা। টানা চারমাসের অধিক সময় ধরে করোনার প্রকোপ অন্যদিকে জেলা উপজেলায় নদনদী বন্যায় প্লাবিত হয়ে যখন বিভিন্ন গ্রাম পাড়া মহল্লায় মানুষ বন্যার পানিতে কর্মহীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ঠিক তখনই এইসব কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে সহায় হিসেবে পাশে দাড়িয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল।
 
মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার কর্মহীন বানভাসি মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সামগ্রী প্রদানসহ পৌর এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। শুধু মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় নয় সদর, ঘিওর ও সাটুরিয়া উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন তিনি।
 
করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মাস্ক হ্যান্ড সানাটাইজার বিতরণসহ বাংলাদেশে প্রথম তিনিই হটলাইনে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পরা মানিকগঞ্জবাসীদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন। করোনা চিকিৎসায় মানিকগঞ্জ পৌর বাসীর জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও চালু করেছিলেন তিনি।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলা ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সুলতানুল আজম খান আপেল জেলার প্রথম ব্যক্তি যিনি করোনায় কাজ হারানো মানুষের মাঝে প্রথম মানবিক সহায়তা নিয়ে মাঠে নামেন। কখনও পৌরসভায় কিংবা কখনও মফঃস্বলে হন্যে হয়ে মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। দলীয় কর্মসূচীর বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে তাঁর খাদ্য সহায়তা মানিকগঞ্জবাসীর চোখে পড়ার মত ছিল।
 
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলার ৩১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলায় প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮৪৭টি পরিবার ও ১ হাজার ১৮০টি গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের জন্য ১৯৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
 
সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন বানের পানিতে ঘর ছাড়া একাধিক মানুষ। এমন দুর্দিনে সুলতানুল আজম খান আপেলের মত মানিকগঞ্জের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও মানবিক মানুষ যদি তাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে এই দুর্যোগের অসহায়ত্বতা থেকে তাদের মুক্তি মিলবে।
 
এ বিষয়ে সুলতানুল আজম খান আপেল এই প্রতিবেদককে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যেভাবে করোনায় ঘরবন্দি মানুষের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছিলাম, এবার একইভাবে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। কখনো হাঁটু পানিতে নেমে, কখনো নৌকায় আবার কখনো হেঁটে বন্যা কবলিতদের পাশে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি যা অব্যাহত আছে।
তিনি মানিকগঞ্জের বিত্তবানদের এসব বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শেয়ার করুন বন্ধুদের

Check Also

যে পদ্ধতিতে পরীক্ষার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি নিরসন, আর্থিক সাশ্রয়, আবাসনসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *