প্রাথমিক শিক্ষক পদে NCTE -এর নয়া নিয়মে সংকটে ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চাকরি প্রার্থীরা!

নিউজ ডেস্ক: শিক্ষকপদের নূন্যতম যোগ্যতা সংশোধন করেছে নিয়ামক সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই)। প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার জন্য স্নাতক স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া আর আবশ্যিক থাকল না। তবে স্নাতক স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর না থাকলে স্নাতকোত্তরে ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।

তার সঙ্গে আরও একটি শর্ত হল, তিন বছরের বিএড এবং এমএড-এর ইন্টিগ্রেটেড কোর্সের ডিগ্রি থাকা। এটা থাকলেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার চাকরি পেতে আর বাধা থাকবে না। যদিও চাকরি পাওয়ার দু’বছরের মধ্যে করে ফেলতেই হবে ছ’মাসের একটি ব্রিজ কোর্স।

রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৬৪৯টি ডিএলএড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। মোট আসন সংখ্যা ৪৫,৭০০। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যা রয়েছে ৩,৭০০। মোট আসনের মধ্যে সাঁওতালি মাধ্যমে আসনসংখ্যা রয়েছে ৫০টি। বাংলা মাধ্যমে আসনসংখ্যা ৪৫,২০০টি। হিন্দি মাধ্যমে আসন সংখ্যা ৩০০টি।

নেপালি মাধ্যমে আসন সংখ্যা ১০০টি। উর্দু মাধ্যমে আসন সংখ্যা রয়েছে ৫০টি। গোটা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ডি.এল.এড পাশ করা পড়ুয়ারা চরম সংকটে। এবার থেকে স্নাতক স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর না থাকলেও প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য আবেদন করতে পারবেন চাকরি প্রার্থীরা। 

এই মর্মে এনসিটিই তাদের ২০১০ সালের নিয়োগবিধিতে বদল এনেছে। প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি পেতে উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ এবং দু’বছরের ডিএলএড (ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন) কোর্স থাকতে হবে।

এর সমতুল কোর্সগুলিও বৈধ ছিল। পরবর্তী কালে নিয়ম সংশোধন করে বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিকে যাঁদের ৫০ শতাংশ নেই, তাঁরা গ্র্যাজুয়েট হলে এবং ডিএলএড করা থাকলে ছাড় মিলবে। বিএড কোর্স করা গ্র্যাজুয়েট (৫০ শতাংশ নম্বর সহ) প্রার্থীদের সামনেও খোলে চাকরির সুযোগ। তাঁদের ক্ষেত্রেও অবশ্য দু’বছরের মধ্যে ছ’মাসের ব্রিজ কোর্স করে নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক।

এই মুহূর্তে রাজ্যে চাকরির শূন্যপদের তুলনায় প্রশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।  কয়েক লক্ষ বিএড এবং ডিএলএড করা চাকরি প্রার্থী নিয়োগের অপেক্ষায় বসে আছেন।  এই অবস্থায় এনসিটিই-এর এই নির্দেশিকায়  ডিএলএড প্রতিষ্ঠানগুলির বিপদ আরও বাড়বে। 

নতুন নিয়মে দেশজুড়ে যেমন ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমন যে চাকরিপ্রার্থীরা উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে ‘ডিএলএড’ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা আচমকাই প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে চলেছেন।

কারণ এন.সি.টি.ই ‘র নতুন নিয়মের জন্য জন্য লাখ লাখ বি.এড, এম.এড উত্তীর্ণ প্রার্থীরা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় সামিল হয়েছেন। অথচ ডি.এল.এড উত্তীর্ণদের সামনে প্রাথমিক শিক্ষকতা বাদে বিকল্প প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ‘ডি.এল.এড’ প্রশিক্ষণ প্রাপ্তদের ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। 

এখন থেকে স্পেশ্যাল বিএড ডিগ্রিধারীরা চাকরি প্রার্থীরাও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষক হতে পারবে।  এনসিটিই এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত, এই ধরনের ডিগ্রিধারীদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।  এর আগে NCTE স্পেশ্যাল বিএড ডিগ্রিধারীদের শুধুমাত্র ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষক হওয়ার যোগ্য বলে ঘোষণা করেছিল।

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এনসিটিই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়ােগের যোগ্যতামান কেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমতুল করে দিল, এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। এতে ডিএলএড প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা আরও বাড়বে।’

এই মুহূর্তে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বি.এড পড়ার ঝোঁক বেশি, কারণ এতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আপার প্রাইমারি স্তরে শিক্ষক পদে আবেদনের পাশাপাশি প্রাইমারি স্তরেও আবেদন করা যাবে। কিন্তু ডি.এল.এড প্রশিক্ষণে কেবল প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকে আবেদন করা যায়। তাই অন্ধকার ভবিষ্যতের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডি.এল.এড পড়ার প্রতি গুরুত্ব না বাড়ায় গত তিন বছরে ডি.এল.এড কোর্সে ভর্তিতে ভাটা পড়েছে।

শিক্ষক সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইমারি ট্রেইনড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি পিন্টু পাড়ুই বলেন, বিএডদের প্রাথমিকে চাকরির সুযোগ আগে দেওয়া হয়েছে। এখন ইন্টিগ্রেটেড এমএড কোর্সেও ছাড় দেওয়া হল।

তাহলে আর ছেলেমেয়েরা দু’বছরের ডিএলএড কোর্স করবে কেন? সেই কোর্স করলে শুধুমাত্র প্রাথমিকে চাকরির দরজা খুলবে। আর বিএড করলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সব রাস্তাই খোলা। এর ফলে ডিএলএডরা বঞ্চিত হচ্ছেন। 

তিনি আরও বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানাব, একইভাবে ব্রিজ কোর্স করিয়ে প্রাথমিকের গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের উঁচু ক্লাসে উন্নীত করা হোক। এর জন্য যাঁদের ডিএলএড রয়েছে, তাঁদের ব্রিজ কোর্স করিয়ে নেওয়া হোক। 

 

Check Also

ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ফল প্রকাশ দুপুরে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ‘ক’ ইউনিটের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার ফল আজ বুধবার দুপুরে প্রকাশ করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *