fbpx

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষার বাংলা প্রস্তুতি-বাচ্য

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষার বাংলা প্রস্তুতি
বাচ্য

বাচ্য: বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশ ভঙ্গিকে বলা হয় বাচ্য।
বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার
১.কর্তৃবাচ্য
২.কর্ম বাচ্য
৩.ভাব বাচ্য

কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বাক্য বলে।
কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
কর্তৃবচ্যে ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুইই হতে পারে।
কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথম বা শূণ্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া বা ষ্ষ্ঠী বিভক্তি হয়।
যথা: শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।

কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সমন্ধ প্রধান ভাবে প্রকাশিত হয় তাকে কর্মবাচ্য বলে।
কর্মবাচ্যে ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।
কর্মবাচ্য কেবল সকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।
কর্মবাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি দ্বারা, কর্তৃক অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
যথা: আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তিও হতে পারে। যথা: আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাব বাচ্য বলে।
ভাববাচ্য ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।
ভাববাচ্য কেবল অকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।
ভাববাচ্যে কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যথা:
আমার খাওয়া হল না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
তোমার দ্বারা এ কাজ হবেনা । (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
আমাকে ভাত দেয়া হয় নি। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্ম পদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলা হয়।
যেমন:
সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।
তোমাকে রোগা দেখায়।
ফুলটি ফুটল।
বাঁশি বাজে।
কাজটা ভাল দেখায় না।
আকাশে মেঘ করিয়াছে।
চাঁদ দেখা যাচ্ছে।

’রাফি বাঁশি বাজায়’ বলিলে কর্তৃবাচ্যের বাক্য হয়। আর, বাঁশি আপনি বাজিলে ইহা কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাক্য হয়। এইরূপ বাক্যের সংখ্যা বাংলায় খুব বেশি নহে। সাধারণত, প্রাকৃতিক ঘটনামূলক ক্রিয়ায় এই বাচ্যের প্রয়োগ দেখা যায়।

বাচ্য পরিবর্তনে ক্রিয়ার ভাব পরিবর্তিত হয়।

বাচ্য পরিবর্তনে ক্রিয়ার কাল পরিবর্তিত হয় না।

বাচ্য পরিবর্তনে বাক্যের প্রকারের পরিবর্তন হয় না।
ক্রিয়াপদ সকর্মক হলে কর্তৃবাচ্যকে কর্মবাচ্যে এবং কর্মবাচ্যকে কর্তৃবাচ্য রূপান্তরিত করা যায়।

কর্তৃবাচ্য
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
আমি ভাত খেয়েছি।
আমি বই পড়েছি।

কর্মবাচ্য
বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
আমার ভাত খাওয়া হয়েছে।
আমার বই পড়া হয়েছে।

কর্মবাচ্য
আমা দ্বারা ফুল তোলা হইয়াছে।
আমার আম খাওয়া হইয়াছে।

কর্তৃবাচ্য
আমি ফুল তুলিয়াছি।
আমি আম খাইয়াছি।
ক্রিয়াপদ অকর্মক হলে কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্যে এবং ভাব বাচ্যকে কর্তৃবাচ্য রূপান্তর করা যায়।

কর্তৃবাচ্য
আমি আর গেলাম না।
তুমি ঢাকা যাবে।
তুমি বেড়ালে?

ভাববাচ্য
আমার আর যাওয়া হলো না।
তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
তোমার বেড়ানো হলো।

ভাববাচ্য
তোমাকে হাটতে হবে।
তার যেন আসা হয়।

কর্তৃবাচ্য
তুমি হাটবে।
সে যেন আসে।

কর্মবাচ্যের ক্রিয়াপদ সকর্মক এবং ভাববাচ্যের ক্রিয়াপদ অকর্মক তাই তাদের মধ্যে রূপান্তর সম্ভব নয়।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
১.’আমার বই পড়া হয়েছে’ কর্তৃবাচ্য রূপ হচ্ছে – (উপজেলা মহিলা কর্মকর্তা:০৫)
-আমি বই পড়েছি

২.যে বাচ্যের কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কোন বাচ্য বলে? (শ্রম পরিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার:০৫)
-ভাববাচ্য

৩.ভাববাচ্যের উদাহরণ – (পিএসসি কর্তৃক নির্ধারিত ১২ টি পদ:০১)
-এবার মাছ ধরা যাক

৪.নিচের কোন বাক্যটি ভাববাচ্যের? (প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক:৯৯)
-আমাকে ভাত দেওয়া হয়নি

৫.তুমি বেড়ালে। এ বাক্যের ভাববাচ্য রূপান্তর – (সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার)
-তোমার বেড়ানো হলো
➡️সংকলন-মোস্তাফিজার মোস্তাক

 

শেয়ার করুন বন্ধুদের

Check Also

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষার বাংলা প্রস্তুতি-ধ্বনি ও বর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষার বাংলা প্রস্তুতি ধ্বনি ও বর্ণ ধ্বনি : কোন ভাষার উচ্চারণের ক্ষুদ্রতম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *