fbpx

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষার প্রস্তুতি(বাংলা)- কারক ও বিভক্তি

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষারপ্রস্তুতি(বাংলা)
কারক ও বিভক্তি

⏺️কারকঃ
কৃ +ণক=কারক।
বাক্যে ক্রিয়া পদের সাথে অন্য পদের সম্পর্ক কে কারক বলে।
⏺️বিভক্তি: বাক্যের শব্দসমূহের সাথে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে বিভক্তি বলে।

⏺️কারক ৬ প্রকার আর বিভক্তি ৭ প্রকার।
প্রথমে দেখি কারক কি কি-
➡️১) কর্তৃকারক
➡️২) কর্মকারক
➡️৩) করণ কারক
➡️৪) সম্প্রদান কারক
➡️৫) অপাদান কারক
➡️৬) অধিকরণ কারক

⏺️কারক = কৃ+ণক। অর্থাত্ ক্রিয়া সম্পাদন করে। কিন্তু এই ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য ব্যক্তি, বস্তু, উপকরণ, স্থান, কাল ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। এগুলো ছাড়া ক্রিয়া সম্পাদন সম্ভব নয়। আর এদের সঙ্গে ক্রিয়া পদের যে সম্পর্ক তাই কারক। অতএব, বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য পদের সম্বন্ধকে কারক বলে। আবার ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যস্থ বিশেষ্য কিংবা সর্বনামের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, “ক্রিয়ার সহিত যে পদের অন্বয় থাকে তাহাকে কারক বলে।” কারকের মাধ্যমেই বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়ে থাকে। বাংলা ভাষায় কারক ছয় প্রকার। এই ছয় প্রকারকে চিনতে নিচের মডেলটি লক্ষ্য করি :
এখানে মনে করি ক্রিয়াটি ‘দেওয়া’। তাহলে দেওয়া বিষয়ে বাক্য গঠন করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তাহলে মডেলের ক্রিয়া ‘দেওয়া’ এর উপর প্রশ্নগুলো আরোপ করে আমরা সেগুলোর উত্তর জেনে নেই।
👉তাহলে বাক্যটি— ‘প্রধান শিক্ষক দরিদ্র তহবিল থেকে নিজ হাতে এক হাজার টাকা স্কুলে ছাত্রদের দিচ্ছেন।’
👉ক) কে দিচ্ছেন? প্রধান শিক্ষক — কর্তৃ কারক
👉খ) কি দিচ্ছেন? টাকা — কর্ম কারক
👉গ) কি দিয়ে দিচ্ছেন? নিজ হাতে — করণ কারক
👉ঘ) কাদের দিচ্ছেন? ছাত্রদের — সমপ্রদান কারক
👉ঙ) কোথা থেকে দিচ্ছেন? দরিদ্র তহবিল থেকে — অপাদান কারক
👉চ) কোথায় দিচ্ছেন? স্কুলে — অধিকরণ কারক
তাহলে উপরের উত্তরগুলো আলোচনা করে আমরা ছয় প্রকার কারক দেখতে পাই। অতএব, কারক ছয় প্রকার। যথা- ১। কর্তৃ কারক, ২। কর্ম কারক, ৩। করণ কারক, ৪। সমপ্রদান কারক, ৫। অপাদান কারক, ৬। অধিকরণ কারক।
👉মনে রাখতে হবে, বিভক্তি চিহ্ন দেখে নয়; বাক্যের অর্থ বুঝে অর্থাত্ ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কারক নির্ণয় করতে হবে। আমরা জানি যে, অন্তরঙ্গে কারক আর বহিরঙ্গে বিভক্তি। অর্থাত্ বাক্যের মূল ক্রিয়াকে প্রশ্ন করে কিংবা মনে মনে চিন্তা করে নির্ণয় করতে হবে কারক এবং মূল শব্দের শেষে যুক্ত চিহ্ন বা অনুসর্গ বাইরে থেকে দেখেই নির্ণয় করতে হবে।

⏺️নিচে বিভিন্ন প্রকারের কারক সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
➡️১। কর্তৃ কারক : যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তা বা কর্তৃ কারক বলে। আবার, ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তৃ সম্বন্ধযুক্ত পদকে বলা হয় কর্তৃ কারক। যেমন- মিতা মালা গাঁথে। এখানে মিতা কর্তৃ কারক। আবার ক্রিয়াকে কে বা কারা দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃ কারক।
➡️২। কর্মকারক : যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে কর্ম কারক বলে। আবার, কর্তা যা করে তা কর্ম। যেমন- কাওসার বই পড়ে। এখানে বই কর্ম কারক। সাধারণত: ক্রিয়াকে (কী) দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরটি হবে কর্মকারক।
👉 বাবা আমাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন। (কাকে দিয়েছেন? আমাকে। কী দিয়েছেন? ল্যাপটপ) : আমাকে- কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি (গৌণ কর্ম) ল্যাপটপ- কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি (মুখ্য কর্ম)
👉ডাক্তার ডাক (কাকে ডাক?): কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি
👉আমাকে একটা বই দাও। (কাকে দাও? আমাকে। কী দাও? বই): আমাকে- কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি (গৌণ কর্ম), বই- কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি (মুখ্য কর্ম)

👉আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থণা। (কাকে করিবে? আমারে): কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি

👉তোমার দেখা নাই। (কার দেখা? তোমার): কর্মকারকে ষষ্ঠী বিভক্তি

👉জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।(কাকে জিজ্ঞাসিবে? জনে জনে): কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি

➡️৩। করণ কারক : করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যা দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে। যেমন- ছেলেরা ছুরি দিয়ে পেন্সিল কাটে। এখানে ছুরি করণ কারক। ক্রিয়াকে (কী দ্বারা) বা (কাকে দ্বারা) প্রশ্ন করলে যে উত্তর আসে সাধারণত তাই করণ কারক। আবার যন্ত্র দ্বারা কার্য সম্পাদন বুঝালে করণ কারক হয়। শরীর কেন্দ্রিক কিংবা বাহ্যিক বস্তু কেন্দ্রিক যন্ত্রও হতে পারে। যেমন- চোখ, কান, ছুরি, বল ইত্যাদি।

👉 পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে। (কী দিয়ে লেখে? কলম দিয়ে):করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি

👉 কীর্তিমান হয় সাধনায়। (কী উপায়ে হয়? সাধনায়): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉 ডাকাতেরা গৃহকর্তার মাথায় লাঠি মেরেছে। (কী দিয়ে মেরেছে? গুলি): করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি

👉 লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করা হয়। (কী দিয়ে চাষ করা হয়? লাঙ্গল দিয়ে): করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি

👉 মন দিয়ে পড়াশুনা কর। (কী উপায়ে/ দিয়ে কর? মন দিয়ে): করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি

👉 ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। (কী দিয়ে ভরেছে? ফুলে ফুলে): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। (কী দিয়ে/ উপায়ে চেনা যায়? গোঁফে): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉সাধনায় সব হয়। (কী উপায়ে সব হয়? সাধনায়): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉 এ সুতায় কাপড় হয় না। (কী দিয়ে হয় না? সুতায়): করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

➡️৪। সম্প্রদান কারক : কর্তা যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান করে বা সাহায্য করে তাই সম্প্রদান কারক। যেমন- সে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়। এখানে ভিক্ষুককে হচ্ছে সমপ্রদান কারক। তবে দেখতে হবে দানটি অবশ্যই স্বত্বত্যাগ হবে।সম্প্রদান কারকের নিয়ম অন্যান্য নিয়মের মতোই সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকেই এসেছে। তবে অনেক বাংলা ব্যাকরণবিদ/ বৈয়াকরণ একে আলাদা কোন কারক হিসেবে স্বীকার করেন না। তারা একেও কর্ম কারক হিসেবেই গণ্য করেন।

👉 কর্মকারক ও সম্প্রদান কারকের বৈশিষ্ট্যও একই। কেবল স্বত্ব ত্যাগ করে দান করার ক্ষেত্রে কর্মকারক হিসেবে গণ্য না করে কর্মপদটিকে সম্প্রদান কারক হিসেবে গণ্য করা হয়।

👉 সম্প্রদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির বদলে চতুর্থী বিভক্তি যুক্ত হয়। চতুর্থী বিভক্তি আর কোথাও যুক্ত হয় না। অর্থাৎ, ‘কে/ রে’ বিভক্তি দুটি সম্প্রদান কারকের সঙ্গে থাকলে তা চতুর্থী বিভক্তি। অন্য কোন কারকের সঙ্গে থাকলে তা দ্বিতীয়া বিভক্তি

👉 তবে কোথাও নিমিত্তার্থে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হলে তা চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল। (নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তি)।

👉1. ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (কাকে দান করা হল? ভিখারিকে।): সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি

👉2. অসহায়কে খাদ্য দাও (কাকে দান করা হল? অসহায়কে।): সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি

👉3. অন্ধজনে দেহ আলো, মৃতজনে দেহ প্রাণ। (কাকে দান করা হল? অন্ধজনে।): সম্প্রদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি

➡️৫। অপাদান কারক : যা হতে কোন কিছু পতিত, চলিত, গৃহীত, ভীত, উত্পন্ন ইত্যাদি হয় তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন- তিল হতে তৈল হয়। এখানে তিল অপাদান কারক।

👉 গাছ থেকে পাতা পড়ে। (কি হতে বের হল/ পড়ল? গাছ থেকে -অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

👉 শুক্তি থেকে মুক্তি মেলে। (কি হতে বের হল? শুক্তি থেকে- অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

👉 জমি থেকে ফসল পাই। (কি হতে ফসল পাই? জমি থেকে: অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

👉দেশ থেকে হায়েনারা চলে গেছে। (কি হতে বের হল? দেশ থেকে: অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

👉বাঘকে ভয় পায় না কে? (কি হতে ভয় বের হল? বাঘ হতে): অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি

👉 বাবাকে বড্ড ভয় পাই। (কি হতে ভয় বের হয়? বাবা হতে): অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি

👉তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কি হতে বের হয়েছেন/ এসেছেন? চট্টগ্রাম হতে): অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

👉 বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিলো। (কি হতে বের হল/ ফেলা হল? বিমান হতে): অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি

➡️৬। অধিকরণ কারক : ক্রিয়ার আধারকে অধিকরণ কারক বলে। ক্রিয়ার আধার বলতে স্থান, কাল, পাত্রকে বুঝায়। যেমন- বনে বাঘ থাকে। এখানে বনে স্থান বুঝায়। কলমে কালি থাকে। এখানে কলমে পাত্র বুঝায়। শুক্রবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে। এখানে শুক্রবার কাল বুঝায়। তবে অধিকরণ কারকে বিষয়াধিকরণও লক্ষ্য করা যায়। যেমন- মেয়েটি অঙ্কে কাঁচা। এখানে অঙ্কে বিষয়াধিকরণ। তবে এক্ষেত্রে শুধু অধিকরণ কারক বললে হবে।
👉 ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।

👉পুকুরে মাছ আছে। (কোথায় আছে? পুকুরে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉বনে বাঘ আছে। (কোথায় আছে? বনে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉 ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে। (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉 এ বাড়িতে কেউ নেই। (কোথায় কেউ নেই? বাড়িতে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉রবিন অঙ্কে কাঁচা। (কী বিষয়ে কাঁচা? অঙ্কে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

👉ঘরের মধ্যে কে রে? (কোথায়? ঘরে): অধিকরণ কারকে অনুসর্গ মধ্যে

👉 বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়। (কোথায় থেকে দেখা যায়? বাড়ি থেকে): অধিকরণে পঞ্চমী বিভক্তি*শেষ উদাহরণটিতে নদী বাড়ি থেকে বের হয়নি, তাই এটি অপাদান কারক নয়। নদী বাড়ি থেকেই দেখা যায়। অর্থাৎ, ক্রিয়াটি বাড়িতেই ঘটছে, তাই এটি অধিকরণ কারক।

👉 সকালে সূর্য ওঠে। (কখন ওঠে? সকালে): অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি

⏺️সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ
কারকের আলোচনায় সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদের কথা এসে যায়। তবে এ দুটি পদ কারক নয়। কেননা ক্রিয়া পদের সাথে এ দুটি পদের সম্পর্ক নেই।
➡️সম্বন্ধ পদ : ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ না থেকে অন্য বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাথে যার সম্পর্ক থাকে, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। যেমন- নয়নের ভাই এসেছে। এখানে নয়নের সাথে ভাইয়ের সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছে। উদাহরণ : ভোটারের ভোট, প্রজার জমি, পুকুরের মাছ, গাছের ফল, রূপার থালা, টাকার গরম ইত্যাদি।
➡️সম্বোধন পদ : ‘সম্বোধন’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে আহবান। যে পদ দ্বারা অন্যকে আহবান করা হয় বা সম্বোধন করা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। যেমন- ওহে মাঝি, আমাকে পার করে দাও। তবে, সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওহে, ওরে, ওগো হে, আয় ইত্যাদি অব্যয় বাচক শব্দ বসে।

⏺️নাম দেখেই প্রথম চারটি কারক আপনার বুঝার কথা।
➡️বাক্যের কর্তাই হল কর্তৃকারক। যেমন: সুমন ডাক্তারকে ডাকতে গেল। এখানে সুমন কর্তৃকারক।
➡️কর্তা যাকে/ যারে অবলম্বন করে কিছু করে তা হল কর্ম। যেমন: সুমন ডাক্তারকে ডাকতে গেল। এখানে সুমন কর্তৃকারক আর ডাক্তার কর্ম কারক।
➡️কর্তা যা দ্বারা/দিয়ে কাজ করে তা হল করণ কারক। [জেনে রাখুন করণ মানে হল যন্ত্র।] যেমন: সুমন পায়ে হেঁটে ডাক্তারকে ডাকতে গেল। পায়ে করণ কারক।
➡️যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে প্রদান করা হয় সে সম্প্রদান কারক। যেমন: ভিক্ষুক কে ভিক্ষা দাও। ভিক্ষুক সম্প্রদান কারক।
➡️যা/যেখান হতে/থেকে -কিছু বিচ্যুত,গৃহীত,জাত,বিরত,দূরিভুত ,রক্ষিত এবং ভীত হয় তা অপাদান কারক। যেমন: তিল থেকে তেল হয়। তিল অপাদান কারক।
➡️ক্রিয়ার আধার(স্থান,কাল পাত্র)কে অধিকরণ কারক বুঝায় । যেমন: বনে বাঘ থাকে। বন অধিকরণ কারক।

⏺️বিভক্তি মনে রাখতে পারেন কারক দিয়ে:

➡️সাধারণত কর্তার সাথে কোন শব্দাংশ থাকে না।
যেমন:
-সুমন ডাক্তারকে ডাকতে গেল।
– সে ঘুরতে বের হল।
– মেসি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেল।
– রোনাল্ডো এবার সবচেয়ে বেশি গোল করেছে।

⏺️বিভক্তির নাম ➖ ⏺️ বিভক্তি

➡️প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি ➖০, অ, রা, গণ।

➡️দ্বিতীয়া বিভক্তি➖ কে, রে

➡️তৃতীয়া বিভক্তি➖দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক

➡️চতুর্থী বিভক্তি➖কে, রে, নিমিত্ত, জন্য

➡️পঞ্চমী বিভক্তি➖ হতে (হইতে), থেকে, চেয়ে

➡️ষষ্ঠী বিভক্তি➖ র, এর

➡️সপ্তমী বিভক্তি➖এ, য়, তে
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
➡️যখন কোন শব্দাংশ থাকে না তা শুন্য বা প্রথমা বিভক্তি।

আবার খেয়াল করুন:
-সুমন ডাক্তারকে ডাকতে গেল।
– তাকে ডাক।
– ধোপাকে কাপড় দাও।

➡️কর্ম কারকে সাধারণত কে, রে থাকে। কে, রে দিয়েই দ্বিতীয়া বিভক্তি।

👉করণ কারক খেয়াল করুন:
সে কলম দিয়ে লিখছে।
ডাকাত আমাকে লাঠি দ্বারা আঘাত করল।
কৃষক লাঙ্গল দিয়ে চাষ করছে।

➡️কলম, লাঠি এবং লাঙ্গল এই তিনটি করণ কারক। এখানে দ্বারা এবং দিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। দ্বারা এবং দিয়ে হল তৃতীয়া বিভক্তি।

ভিক্ষুক কে ভিক্ষা দাও।
অসহায়কে খাদ্য দাও।

➡️সম্প্রদান কারকে সাধারণত কে, রে থাকে। কে, রে দিয়েই চতুর্থী বিভক্তি।

➡️যা/যেখান হতে/থেকে -কিছু বিচ্যুত,গৃহীত,জাত,বিরত,দূরিভুত ,রক্ষিত এবং ভীত হয় তা অপাদান কারক।
➡️আর এই হতে, থেকে, চেয়ে এ বিভক্তি হল পঞ্চমী বিভক্তি।

➡️ক্রিয়ার আধার(স্থান,কাল পাত্র)কে অধিকরণ কারক বুঝায় । স্থান এবং সময়ের সাথে র, এর,এ, য়, তে বসে।
যেমন: ঘরের মধ্যে কে?
তিনি ঢাকায় থাকেন।
বনে বাঘ থাকে।
পুকুরে মাছ পাওয়া যায়।

➡️র, এর হল ষষ্ঠী বিভক্তি এবং এ, য়, তে হল সপ্তমী বিভক্তি।

⏺️দুটি ব্যাপার ভুলবেন না:
👉১। বিভক্তি সংখ্যা দিয়ে লিখবেন না। অর্থাৎ ১মা না লিখে প্রথমা লিখবেন।
👉২। অনেক ব্যাকরণবিদ/বৈয়াকরণ সম্প্রদান কারক কে আলাদা কারক মনে করেন না।

⏺️এখন সহজ নিয়মে কারক নির্ণয় শিখে ফেলুন:

👉নিচের বাক্যটি খেয়াল করুন:

➡️মেসি ব্রাজিল থেকে টিকেট কিনে প্লেনে করে স্পেন গিয়ে ভাল অর্থ আয় করে কিছু অংশ দরিদ্র কে দিল।

👉আপনাকে বলা হল নিচের শব্দ গুলোর কারক নির্ণয় করতে :

মেসি, ব্রাজিল, প্লেন, স্পেন, টিকেট, দরিদ্র।

➡️আপনার প্রথম কাজ: ক্রিয়া চিহ্নিত করা। কিনে, গিয়ে, খেলে, আয় করে, দিল —> এই সব গুলো এখানে ক্রিয়া। মেসি এখানে সব কাজ করেছে। তাহলে আপনি মেসির সাথে যেকোন একটি ক্রিয়া নিন। মেসি দিল। এখন আপনার দ্বিতীয় কাজ হল এই ক্রিয়া দিয়ে এমন প্রশ্ন করা যার উত্তর মেসি হয়।

👉কে দিল? মেসি দিল। “কে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাবেন তা হল কর্তৃকারক।

👉মেসি টিকেট কিনে। কি কিনে? টিকেট; “কি” অথবা “কাকে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা হল কর্মকারক।

👉প্লেনে করে স্পেন গেল। কি দ্বারা গেল? প্লেন দ্বারা। “কি দ্বারা” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা হল করণ কারক।

👉দরিদ্র কে দিল। কাকে দিল? [একবারে দিয়ে দিল, ফেরত নিবে না। ] “কাকে” দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা হল সম্প্রদান কারক।

👉মেসি ব্রাজিল থেকে গেল। কোথা থেকে গেল? “থেকে”, “হতে”, “চেয়ে” দিয়ে প্রশ্ন করলে অপাদান কারক।
👉মেসি স্পেন গেল। কোথায় গেল? কোথায় বা কখন দিয়ে প্রশ্ন করলে অধিকরণ কারক হবে।

➡️আসলে কারক খুবই সহজ। কিন্তু বাক্যের উপস্থাপন আপনাকে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। যেমন:

সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা? (সর্বাঙ্গে )
শিকারী বিড়াল গোফে চেনা যায়। (গোফে)
বোটা আলগা ফল গাছে থাকে না। (বোটা আলগা)
জিজ্ঞাসিব জনে জনে। (জনে জনে)
তিলে তেল আছে। (তিলে)
তিলে তেল হয়। (তিলে)

👉আপনি যদি বুঝতে পারেন বাক্যটি কি বুঝতে চাচ্ছে, আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
➡️সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা? (সর্বাঙ্গে ) কোথায় ব্যথা — অধিকরণ কারক।
➡️শিকারী বিড়াল গোফে চেনা যায়। (গোফে) কি দ্বারা, গোফ দ্বারা — করণ কারক।
➡️বোটা আলগা ফল গাছে থাকে না। (বোটা আলগা) বোটা আলগা মানে বোটা থেকে আলগা — অপাদান কারক।
➡️জিজ্ঞাসিব জনে জনে। (জনে জনে) কাকে জিজ্ঞাসিব — কর্ম কারক।
➡️তিলে তেল আছে। (তিলে) কোথায় তেল আছে? — অধিকরণ কারক।
➡️তিলে তেল হয়। (তিলে) কোথা থেকে তেল হয়? — অপাদান কারক।
➡️সংকলন-মোস্তাফিজার মোস্তাক

 

শেয়ার করুন বন্ধুদের

Check Also

Bangladesh Karmachari Kallyan Board Job Circular 2020

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | BKKB Job Circular 2020

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বাের্ডের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *