পরমাণু ও পরমাণুর গঠন

Discuss Today

পরমাণু ও পরমাণুর গঠন

অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তরঃ অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপঃ

পরমাণু:

মৌলিক পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কণা।

পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে।

অণু:

মৌলিক ও যৌগিক পাদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্রতম কণা।

অণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না।

বস্তর ধর্ম ধারণ করে এরকম ক্ষুদ্রতম কণিকার নাম কী?

উত্তরঃ অণু

কোন মৌলিক গ্যাসের অণু এক-পরমাণুক?

উত্তরঃ নিষ্ক্রিয় গ্যাস ।

স্থায়ী মূল কণিকা বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : যেসব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে
তাদের স্থায়ী মূল কণিকা বলে।

স্থায়ী মূল কণিকাগুলোর নাম কী?

উত্তরঃ ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

মৌলিক কণিকাগুলোর কোনটির চার্জ বা আধান কিরূপ?

উত্তরঃ প্রোটন ধনাত্মক চার্জযুক্ত; ইলেকট্রন ঋণাত্নক চার্জযুক্ত; নিউট্রন চার্জবিহীন বা চার্জনিরপেক্ষ।

পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয় কেন?

উত্তরঃ পরমাণুতে ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান।

পারমাণবিক সংখ্যা কাকে বলে?

উত্তরঃ নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

পরমাণুর নিউক্লিয়াস কী?

উত্তরঃ পরমাণুর একটি কেন্দ্র থাকে, যার নাম নিউক্লিয়াস। অর্থাৎ, পরমাণুর কেন্দ্রকে পরমাণুর নিউক্লিয়াস বলে।

পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোন মৌলিক কণিকাগুলো থাকে?

উত্তরঃ প্রোটন ও নিউট্রন।

ইলেকট্রন কোথায় থাকে?

উত্তরঃ ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকে এবং তা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে চারিদিকে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

‘নিউট্রন’ নামের তাৎপর্য কী?

উত্তরঃ আধানবিহীন (Neutral) হওয়ার কারণেই এই নামকরণ করা হয়।

প্রোটনের আবিষ্কারক কে?

উত্তরঃ রাদারফোর্ড

কে নিউট্রন আবিষ্কার করেন ?

উত্তরঃ চ্যাডউইক।

ইলেকট্রনের আবিষ্কারক কে?

উত্তরঃ থমসন।

কোন মৌলিক কণিকার ভর সবচেয়ে কম?

উত্তর: ইলেকট্রন। সে

কোন মৌলিক কণিকার ভর সবচেয়ে বেশি?

উত্তরঃ নিউট্রন।

কোন মৌলের পরমাণুতে নিউট্রন নেই?

উত্তরঃ হাইড্রোজেন

” ঘর্ষণ, তাপ, রাসায়নিক প্রভৃতি প্রক্রিয়ায় সহজেই পরমাণু থেকে কোন মূল কণিকা নির্গত হয়?

উত্তরঃ ইলেকট্রন।

নিউক্লিয় শক্তি বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে বা নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে অথবা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে যে শক্তি পাওয়া যায়, তাকে নিউক্লিয় শক্তি বা Nuclear Energy বলা হয়। অনেক সময় একে পারমাণবিক শক্তি তথা Atomic Energy নামেও অভিহিত করা হয়।

কিভাবে নিউক্লিয় শক্তি উৎপন্ন হয়?

উত্তর পরমাণু হতে দুটি পদ্ধতিতে নিউক্লিয় শক্তি উৎপন্ন হয়। যথা-১. ফিউশন এবং ২. ফিশন।

ফিউশন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে, তাকে ফিউশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় একাধিক হাল্কা পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্র হয়ে অপেক্ষাকৃত ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং অত্যধিক শক্তি নির্গত করে।

পারমাণবিক বোমা কোন নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে?

উত্তর ঃ ফিশন।

হাইড্রোেজন বোমা কোন নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে?

উত্তরঃ ফিউশন।

সূর্যে কিভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়?

উত্তরঃ সূর্যে পরমাণুর ফিউশনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।

পারমাণবিক বোমা তৈরিতে কোন তেজস্ক্রিয় মৌল ব্যবহৃত হয়?

উত্তরঃ ইউরেনিয়াম, প্লটোনিয়াম।

হাইড্রোজেন বা উদযান বোম তৈরিতে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তরঃ হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম ও ট্রাইটিয়াম।

কে ফিশন আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ জার্মান বিজ্ঞানী অটোহ্যান; ১৯৩৯ সালে।

পারমাণবিক ভর বা ওজনের আবিষ্কারক কে?

উত্তরঃ জন ডাল্টন।

পারমাণবিক বোমার আবিষ্কারক/জনক কে?

উত্তর : ওপেনহেইমার।
(বি.দ্র: অপশনে ওপেনহেইমার না থাকলে উত্তর হবে অটোহ্যান। কেননা, ফিশনের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা বানানো হয়। আর তিনি ফিশন আবিষ্কার করেছেন

‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’ বা ‘আপেক্ষিক তত্ত্ব’ এর প্রণেতা কে?

উত্তর : আলবার্ট আইনস্টাইন।

পারমাণবিক ভর বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : নিউট্রন ও প্রোটনের ভর। অর্থাৎ, পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে দুটি মৌলিক কণা থাকে তাদের ভরই পারমাণবিক ভর। এজন্য পারমাণবিক ওজনও নিউট্রন ও প্রোটনের ওজনের সমান।

প্রতিটি ফিশনে কী পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়?

উত্তর: 200MeV

নিউক্লিয় রিয়াক্টর বা নিউক্লিয় চুল্লি কী?

উত্তর : নিউক্লিয় চেইন বিক্রিয়াকে যে যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তার নাম নিউক্লিয় রিয়াক্টর বা নিউক্লিয় বিক্রিয়ক। একে পারমাণবিক চুল্লিও বলা হয়। অর্থাৎ, পারমাণবিক চুল্লির আরেক নাম নিউক্লিয় রিয়াক্টর।

নিউক্লিয়ার রিয়াক্টরে গতি মন্থরক হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর : ক্যাডমিয়াম বা বোরন দণ্ড বা গ্রাফাইট ।

পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেট হিসেবে ব্যবহৃত হয় কোনটি?

উত্তর : গ্রাফাইট।

পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়?

উত্তর : সোডিয়াম ।

পারমাণবিক চুল্লিতে বহুল ব্যবহৃত জ্বালানী কোনটি?

উত্তর : ইউরেনিয়াম^২৩৫ বা U^235

কোন মৌলের পরমাণুতে নিউট্রন নেই?

উত্তর : হাইড্রোজেন।

পানির সংকেত কী?

উত্তর : H2O।

ভারী পানির সংকেত কী?

উত্তর : D2O

ভারী পানি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : ডিউটেরিয়াম অক্সাইড।

তেজস্ক্রিয় (Radio) আইসোটোপ কাকে বলে?

উত্তরঃ যে সমস্ত আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় ধর্ম প্রদর্শন করে তাদের তেজস্ক্রিয় বা রেডিও আইসোটোপ বলা হয়। যেমন ইউরোনিয়াম, প্লটোনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি।

কনফিউশান প্রশ্ন 

যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় = আইসোটোপ

যে সকল পরমাণুর নিউটন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় = আইসোটোন

যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় = আইসোবার।

যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান, তাদের বলা হয় = আইসোমার।

মনে রাখার সহজ টেকনিক:

আইসোটোপ, আইসোটন এবং আইসোবার, আইসোমার:

আইসোটোপ এর শেষে “প” আছে, তাই প্রোটন সংখ্যা সমান।

আইসোটোন এর শেষে “টোন” আছে তাই নিউট্রন সংখ্যা সমান।

আইসোবার এর শেষে “বার” আছে তাই ভরসংখ্যা সমান।

আইসোমার এর প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান। দুজনই সমানে সমান টক্কর দিয়ে “মারামারি” করে। অর্থাৎ, দুজনই সমান হওয়াতে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না।

মনে রাখার সহজ টেকনিক: জারক-বিজারক

জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ হয় নাকি গ্রহণ করে?

মনে রাখুন: জারণ মানে ছাড়ন! মানে, ইলেকট্রন ত্যাগ। অর্থাৎ জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ হয়। বিজারণ তার বিপরীত অর্থাৎ গ্রহণ।

মনে রাখার সহজ টেকনিক: জারক-বিজারক

জারক ইলেকট্রন গ্রহণ করে নাকি ত্যাগ করে? মনে রাখুন: জাগ্রত বিদ্বান!

জা-জারক, গ্র- গ্রহণ।
অর্থাৎ জারক গ্রহণ করে। বি-বিজারক, দ্বান-দান। অর্থাৎ বিজারক দান করে।

নোট মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)  পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুলো বাছাই করে Important culture গুলো দেয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *