পদার্থের অবস্থা ও তাদের পরিবর্তন

পদার্থের অবস্থা ও তাদের পরিবর্তন

● পদার্থ:

যার ভর আছে, যা স্থান দখল করে অবস্থান করে তাকে পদার্থ বলে।

পদার্থের অবস্থাভেদ :

পদার্থ তিনটি অবস্থায় থাকতে পারে। যথা: কঠিন, তরল ও বায়বীয় তাপ পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ। পানি একমাত্র পদার্থ যা প্রকৃতিতে কঠিন (বরফ), তরল (পানি) এবং বায়বীয় (জলীয় বাষ্প) তিনটি অবস্থাতেই পাওয়া যায়

কঠিন পদার্থ :

কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন এবং দৃঢ়তা আছে। আর অণুসমূহ পরস্পরের অতি সন্নিকটে অবস্থান করে। যেমন: বালু, পাথর, লবণ।

● তরল পদার্থ :

তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই। তরল পদার্থের অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকে, তবে তাদের মধ্যকার আকর্ষণ কঠিন পদার্থের মত প্রবল নয়। উদাহরণ: পানি, কেরোসিন।

● বায়বীয় পদার্থ :

বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। বায়বীয় পদার্থের অণুসমূহের দূরত্ব অনেক বেশি, তাই আকর্ষণ শক্তি অনেক কম। ফলে তারা মুক্তভাবে চলাচল করে। উদাহরণ: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, মিথেন।

● গলনাংক:

যে অবস্থায় কোন পদার্থ কঠিন পদার্থ হতে তরণ অবস্থায় পরিণত হয়, তাকে সে পদার্থের গলনাংক বলে। পানির গলনাংক ০° সেন্টিগ্রেড। কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংকের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়।

● স্ফুটনাংক:

যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থ ফুটতে থাকে, তাকে সে পদার্থের স্ফুটনাংক বলে। পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেন্টিগ্রেড। চাপ বৃদ্ধি পেলে স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায়, চাপ কমলে স্ফুটনাংক কমে। যে তাপে বস্তুর তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় সে তাপকে বলে- সুপ্ততাপ।

● নিষ্ক্রিয় মৌল :

যে সমস্ত মৌল কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না, তাদের নিষ্ক্রিয় মৌল বলে। যেমন: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন, রেডন ইত্যাদি।

● পদার্থের পরিবর্তন:

পদার্থের পরিবর্তন দুই ধরণের। যথা- (১) ভৌত বা অবস্থাগত পরিবর্তন (২) রাসায়নিক পরিবর্তন।

● (১) ভৌত বা অবস্থাগত পরিবর্তন:

ভৌত বা অবস্থাগত পরিবর্তন যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু নতুন কোন পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে।
যেমন: পানিকে ঠাণ্ডা করে বরফে এবং তাপ দিয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত করা, একটি লোহার টুকরাকে ঘর্ষণ করে চুম্বকে পরিণত করা ও তাপ দিয়ে মোম গলানো।

ভৌত পরিবর্তনের উদাহরণ :

→ লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা।

→ চিনিকে পানিকে দ্রবীভূত করা।

→ কঠিন মোমকে তাপে গলানো।

→ বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো।

→ পানিকে ঠান্ডা বরফে পরিণত করা।

→ পানিকে তাপ দিয়ে জলীয় বাষ্পে পরিণত করা।

● (২) রাসায়নিক পরিবর্তন:

রাসায়নিক পরিবর্তন যে পরিবর্তনের ফলে এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে।
যেমন: লোহায় মরিচা ধরা, দুধকে ছানায় পরিণত করা, চাল সিদ্ধ করে ভাতে পরিণত করা ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো।

রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ :
→ লোহায় মরিচা পড়া
→ দুধকে ছানায় পরিণত করা
→ মোমবাতির দহন
→ দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো
গাছের পাতায় খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া

*পদার্থ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

যৌগিক পদার্থ দুই প্রকার। যথা: জৈব যৌগ ও অজৈব যৌগ।

যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোন সহজ বস্তুতে রুপান্তরিত করা যায় না, তাকে বলে- মৌলিক পদার্থ।

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে হালকা মৌল- হাইড্রোজেন।

প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারী মৌল- ইউরেনিয়াম।

সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌল আনানসেপ্টিয়াম।

যে সব মৌল কখনো ধাতু কখনো অধাতুর ন্যায় আচরণ করে তাকে বলে- উপধাতু যেমন: আর্সেনিক, বোরন, সিলিকন।

তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে বলে- ধাতু।

যেসব মৌল প্রধানত তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী তাদের বলে- অধাতু।

বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ।

পানি- একটি যৌগিক পদার্থ

সবচেয়ে হালকা গ্যাস- হাইড্রোজেন।

সবচেয়ে ভারী পদার্থ তরল মারকারি বা পারদ।

পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গলনাংক, স্ফুটনাংক এবং ঘনত্ব হলো- পদার্থের ভৌত ধর্ম।

যেসব কঠিন পদার্থ উত্তপ্ত করলে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাকে বলে- ঊর্ধ্বপাতিত/উদ্বায়ী পদার্থ যেমন আয়োডিন, কপুর, নিশাদল। প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন/শক্ত পদার্থ- হীরক।

ফটোস্ট্যাট মেশিনে ব্যবহৃত মৌলিক পদার্থটির নাম- সেলিনিয়াম।

নোটঃ মোস্তাফিজার মোস্তাক 

Check Also

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)  পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুলো বাছাই করে Important culture গুলো দেয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *