নেতার কবজি কেটে নিল প্রতিপক্ষ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের কোপে ছাত্রলীগ নেতা শুভ শীলের (২০) ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে শহরের হাসপাতাল সড়কের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফজলে রাব্বি (২২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।হামলার শিকার শুভ শীল মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক (অনার্স) প্রথমবর্ষের ছাত্র ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি শহরের দক্ষিণ মিঠাখালী মহল্লার শ্যামল চন্দ্র শীলের ছেলে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সংগঠনের মঠবাড়িয়া পৌরসভা শাখা বিপুল্ত করেছে। স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে চারজনকে। বহিষ্কৃতরা হলেন—শাকিল আহমেদ সাদি, তানভির মল্লিক, তৌফিক হাসান প্রান্ত ও কোরবান জুনায়েদ। তাঁরা সবাই মঠবাড়িয়া পৌর ছাত্রলীগের কর্মী।

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া পৌর কমিটি গঠিত হয় ২০১৪ সালে। ওই সময় ৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর পার হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আর নতুন করেও পৌর কমিটি গঠিন হয়নি।মঠবাড়িয়া পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার আহমেদ মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুভ শর্মার সঙ্গে কারো তেমন কোনো ঝামেল ছিল না।

মূলত সে মঠবাড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রাজুর অনুসারী ছিল। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শরিফুল ইসলাম রাজু মাদকাসক্ত। প্রায় সময় নেশা করে। আর সে কারণে হয়তো কারো সঙ্গে তার ঝামেলা ছিল। সেই সূত্র ধরে ছাত্রলীগের অন্য একটি পক্ষ শুভ শর্মার ওপর হামলা চালিয়েছে।’

যদিও পুলিশ বলছে, একটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুভ শীলের ওপর হামলা হয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে হামলার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌসের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া তাঁর গাড়ি ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মিছিলকারীরা ফিরে যায়।

গতকাল দুপুরে হিন্দু যুব ঐক্য পরিষদ পৌরসভা শাখার উদ্যোগে শহীদ মিনারের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয় থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোনসেট নিয়ে শুভ শীলের সঙ্গে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সাদিক, নাঈম, কোরবান, তানভীর মল্লিকসহ কয়েকজন যুবক শহরের হাসপাতাল রোডের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় শুভকে একা পেয়ে আটক করে।

বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ঠেকিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে উল্লাস করে চলে যায়। ঘটনার সময় ব্রিজসংলগ্ন সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসী শুভকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তাঁর বিচ্ছিন্ন কবজি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছে।

গভীর রাতে শুভর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।মঠবাড়িয়া থানার ওসি আ জ ম মাসুদ্দুজ্জামান মিলু ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, একটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারীরা পৌর ছাত্রলীগের নামধারী কর্মী। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পৌর মেয়র রফিউদ্দিন আহম্মেদ ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা শুভর কবজি কেটে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা নৃশংস ও বেদনাদায়ক। এর জের ধরে মেয়রের বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা শান্ত মঠবাড়িয়াকে অশান্ত করার অপচেষ্টা।

 

Check Also

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুনুলকে নেওয়া হয়েছে তেজগাঁও থানায়

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর তেজগাঁও থানায় নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার মোহাম্মদপুরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *