নভেম্বরেও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি চলছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ ছুটি আছে। তবে এই ছুটি নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়,

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, করোনার যে পরিস্থিতি তাতে নভেম্বরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে না। যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জেএসএসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পর এবার স্কুলেও বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই ‘অন্য কোনো উপায়ে’

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে ‘প্রমোশনের’ চিন্তাভাবনা করছে সরকার। স্কুলের মূল্যায়নটি কীভাবে হবে, সেটি সামনের সপ্তাহেই জানানো হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের চিন্তা ছিল, যদি অক্টোবর বা নভেম্বরেও বিদ্যালয় খোলা সম্ভব হত, তাহলে পাঠ্যসূচি কাটছাঁট করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কোনোরকমে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।এমন পরিস্থিতিতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত আড়াই মাসের ক্লাসসহ আরও অন্যান্য কিছু বিষয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হতে পারে।

এর আগে মহামারী করোনার সংক্রমণ এড়াতে প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এর পরে জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

গত বুধবার এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করেই এবারের এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’

দীপু মনি আরো বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের কাছে আমরা মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি।

পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বের অনেক দেশের পরিস্থিতি দেখে আমরা ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরাসরি পরীক্ষা বাতিল করে পরীক্ষার্থীদের জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ওপর মূল্যায়ন করে গ্রেড নম্বর নির্ধারণ করা হবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেহেতু এ বছর পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই প্রমোশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরের শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করার ব্যবস্থা নিতে হবে।’

Check Also

৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে যাচ্ছে এনটিআরসিএ

৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে যাচ্ছে এনটিআরসিএ

বেসরকারি বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *