করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কবে হবে এইচএসসি পরীক্ষা

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কবে হবে এইচএসসি পরীক্ষা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ ৬ই অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। এই সময়ে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে এই বন্ধের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ল।মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সায়েদুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সেপ্টেম্বর নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। কিন্তু পরীক্ষা না হওয়ায় কবে নাগাদ এই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করতে পারবেন, তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার থেকে একটি বছর হারিয়ে যাবে কিনা, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

একদিকে সরকার যেমন এখনো এইচএসসি পরীক্ষার কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারছেন না, তেমনি পাবলিক-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও পরিস্থিতির উন্নতি আর সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন টানা বন্ধের ঘটনা আর ঘটেনি।

অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

ঢাকার ধানমণ্ডির বাসিন্দা নাফিস শাহরিয়ারের এই বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তার সব পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে গেছে।

“ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চেষ্টার পাশাপাশি বিদেশে স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা করবো। কিন্তু পরীক্ষা হবে না জানার পর থেকে পড়াশোনা আর ঠিকভাবে করা হচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে একটা চিন্তার মধ্যে আছি।”

ফরিদপুরের একজন পরীক্ষার্থী তানিয়া ইয়াসমিন বলছেন, “যেভাবে প্রিপারেশন নিয়েছিলাম, তাতে বড় একটা ছেদ পড়লো। লকডাউন শুরুর পর থেকে তো কোচিং, স্যারদের কাছে পড়া সব বন্ধ। যা পড়েছিলাম, তাও এখন ভুলতে বসেছি। নতুন একটি ডেট দিলে আবার জোরেশোরে পড়াশোনা শুরু করতে হবে।”

বাংলাদেশে ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লক্ষের বেশি।

এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এপ্রিল মাসের শুরুতে। কিন্তু করোনাভাইরাস জনিত পরিস্থিতির কারণে তখন সাধারণ ছুটি ও সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেই পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। এরপরে কয়েক দফায় সাধারণ ছুটি বাড়ানোয় পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব

কবে হবে এইচএসসি পরীক্ষা

দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি শেষ হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ৬ই অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশের সরকার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন টানা বন্ধের ঘটনা আর ঘটেনি।

কর্মকর্তারা বলছেন, সব কিছু নির্ভর করছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কি হয়, তার ওপরে।

বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন বলছেন, “ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে আমাদের চিন্তাটা হলো পরিস্থিতির যখন উন্নতি হবে, স্বাভাবিকের দিকে আসবে, তখন আমর তারিখটা ঘোষণা করবো। তখন পরীক্ষাটা নেবো।”

অগাস্টের পর পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলে, পরীক্ষা অনুষ্ঠান, ফলাফল প্রকাশ হতে হতে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস লেগে যেতে পারে। তার কিছুদিন পরে আরেকটি এইচএসসি পরীক্ষার সময় চলে আসবে। সেক্ষেত্রে কী করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলছেন, এখনি তারা এ বিষয়ে আগাম বলতে চান না।

“আমরা কিছু কন্টিনজেন্সি প্লান (সম্ভাব্য সব ঘটনার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা) করে রেখেছি। পরীক্ষা কোন সময়ে নেবো, তার সঙ্গে ম্যাচ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। পরিস্থিতি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।”, বলছেন মি. হোসেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তখন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি কতোটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, তার ওপরে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পেছাতে হবে

বাংলাদেশে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সেশনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ। কিন্তু এই বছর সেটা কবে হবে, তা কারো জানা নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলছেন, “সব কিছুই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, এটাই বাস্তবতা। শুধু ভর্তি নয়, আমাদের গ্রাজুয়েশন কার্যক্রমও প্রলম্বিত হবে। ভর্তি কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত এর মধ্যেই আমরা নিয়ে রেখেছি। এখন আমরা অপেক্ষা করছি পরিস্থিতি দেখার জন্য যে, অগাস্ট সেপ্টেম্বর নাগাদ পরিস্থিতি কেমন হয়।”

তিনি বলছেন, এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হলে সেই অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এই জটিলতা একটু কম। তারা বছরে তিনটি সেমিস্টারে ছাত্র ভর্তি করে থাকে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর তারা যেকোনো সময়েই ভর্তি করতে পারবে। তবে এই সময়সূচীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভর্তি সময় বদলে নিতে হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে।

বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম. শাহজাহান মিনা বলছেন, সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষার পরে সেপ্টেম্বর সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি বেশি হয়। এখন পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে হলে তাদের ফলাফল পেতে নভেম্বর-ডিসেম্বর হয়ে যাবে। ফলে জানুয়ারির আগে তাদের ভর্তি করানো সম্ভব হবে না। এর ফলে প্রতিটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত দুইটা সেপ্টেম্বরে ভর্তি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সেশনজটের তৈরি হতে পারে?

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক এম. শাহজাহান মিনা বলছেন, সেটার সম্ভাবনা কম।

“বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো সেমিস্টারেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে যেমন একবছরের একটা গ্যাপ থাকতো। এখন হয়তো সেই গ্যাপটা একবছর থাকবে না, সেটা হয়তো আটমাসে নেমে আসবে।”

তিনি মনে করেন, যেহেতু ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সামনে বছরের এইচএসসি পরীক্ষাও এপ্রিল-মে মাসের বদলে দুই-একমাস পিছিয়ে যেতে পারে।

বিকল্প ভাবতে হবে

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন বা ক্যাম্পে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়েছে। বাংলাদেশে যদি এইচএসসির মতো বড় পরীক্ষা আয়োজনে সমস্যা হয় বা পিছিয়ে দিতে হয়, তাহলে সেটার বিকল্প এখনি ভাবা উচিত।

তিনি বলছেন, “শিক্ষাপঞ্জি যে তছনছ হয়ে যাচ্ছে, সেটা শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে পরীক্ষা নির্ভর, সে কারণে এটা আরেকটি সমস্যা তৈরি করেছে। কারণ এখানে শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে শিক্ষাপঞ্জি অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার মানে হলো শিক্ষার্থীদের সব ধরণের কর্মকাণ্ডই অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া।”

“এইচএসসি একটা বড় পরীক্ষা। সেটা পিছিয়ে গেলে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। বিকল্প কী হতে পারে, পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে কী করবেন, সেটা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা সমাধান বের করতে হবে। অনেক দেশে আগের ক্লাস পরীক্ষার মার্কিং বা গ্রেডের ফলাফলের ভিত্তিকে এভারেজ রেজাল্ট ঠিক করে দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেটাও একটা বিকল্প ভাবা যেতে পারে।, বলছেন রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি জানান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শিক্ষা ব্যাহত হওয়ায় অটো প্রমোশন হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হয়েছিলেন, তারা একটা সেশন জটে পড়লেও, পরবর্তী এক-দুই বছরের মধ্যে সেটার সমাধান হয়েছিল।

দৈনিক শিক্ষা  

Due to the coronavirus situation, the government has extended the period of closure of educational institutions in Bangladesh till August 8. All types of educational institutions will be closed during this time. However, the closure has also increased uncertainty about the Higher Secondary Examination (HSC). A BBC report on Tuesday (June 18) said this. The report is written by Sayedul Islam.

According to the report, admission to the university usually starts in September when the HSC exams are held in April-May. But the lack of exams has also created uncertainty as to when these students will be able to start university life, whether a year will be lost from their academic calendar.

On the one hand, just as the government has not yet been able to give a specific date for the HSC exams, public-private universities are also looking at improving the situation and government decisions.

Except during the liberation war of Bangladesh in 1971, there was no such incident of closure of educational institutions.

Students in uncertainty

Nafis Shahriar, a resident of Dhanmondi in Dhaka, was scheduled to take the HSC exam this year. But coronavirus has turned all his plans upside down.

“I was well-prepared. I wanted to try for a scholarship at a government university as well as abroad. But since I didn’t know there would be an exam, I wasn’t studying properly. All in all, I’m worried.”

Tania Yasmin, an examinee from Faridpur, says, “There was a big break in the way I took the preparation. From the beginning of the lockdown, coaching, reading to the sirs has stopped. I have forgotten what I read now. “

The total number of candidates in the Higher Secondary Examination (HSC) 2020 in Bangladesh is more than 13 lakh.

The HSC exam was scheduled to be held in early April. But due to the coronavirus situation, the exams were postponed due to public holidays and closure of all educational institutions. After that it is possible to organize examinations by extending the general leave in a few phases

When will the HSC exam be?

Although the general holiday is over across the country, the government of Bangladesh has extended the holiday in educational institutions till August 8. Except during the liberation war of Bangladesh in 1971, there was no such incident of closure of educational institutions.

Officials say it all depends on what the coronavirus situation is.

Md. Mahbub Hossain, Secretary, Department of Secondary and Higher Education, Ministry of Education, Bangladesh, said, “Our concern with the issue of intermediate candidates is that when the situation improves and returns to normal, we will announce our date. Then we will take the exam.”

If the test date is announced after August, the test schedule, the results may be released in November-December. Another HSC exam will come a few days later. Asked what would be done in that case, he said, they do not want to say in advance about it now.

“We have some contingency plans (alternative plans for all possible events). The next decision will be made by matching the time of the test. We will make a decision based on the situation,” he said. Hossain.

However, an official of the ministry, who did not want to be named, said that the HSC examination is being considered for September. But the final decision will depend on how well the coronavirus situation can be brought under control.

University admission will be delayed

In Bangladesh, the admission process for the new session in the university usually starts by the month of September. But no one knows when that will happen this year.

Dhaka University Vice-Chancellor Prof Mohammad Akhtaruzzaman said, “Everything is facing challenges, this is the reality. Not only admission, our graduation process will also be prolonged. We have already made some decisions about the admission process. Now we are waiting to see the situation in August.” How is the situation by September? “

He says that if the date of HSC examination is fixed, they will decide accordingly.

However, this complication is a little less for private universities. They admit students for three semesters a year. As a result, they will be able to get admission at any time after the result of HSC examination. However, public universities will have to change the admission time to keep pace with this schedule.

A private university, State University of Bangladesh Vice-Chancellor Prof. M. Shahjahan Mina says student admissions are usually higher in the September semester after the HSC exams. Now if the test is in September, it will be November-December to get their results. As a result, it will not be possible to get them admitted before January. As a result, the admission process of at least two private universities will be severely affected.

Sessions can be created?

State University of Bangladesh Vice-Chancellor Prof. Shahjahan Mina says it is less likely.

“Students can be admitted in any semester in a private university. But there was a gap of one year in public universities as before. Now that gap may not be one year, it may come down to eight months.”

He thinks that as the children’s education has been affected, the HSC exams of the next year may be delayed by two-one months instead of April-May.

You have to think of alternatives

Campaign for Popular Education, a private research organization working on the education system in Bangladesh. Rasheda K Chowdhury, a top official at the institution and a former adviser to the caretaker government, says the coronavirus situation has put pressure on education systems around the world. If there is a problem or postponement of big exams like HSC in Bangladesh, then the alternative should be considered now.

He says, “The fact that the curriculum is being disrupted has happened not only in Bangladesh, but in many countries. But the way the education system in our country relies on exams, it has created another problem. The uncertainty of the curriculum means that all kinds of activities of the students become uncertain. “

“HSC is a big test. If it is delayed, you have to think of alternatives. What are the alternatives, what to do about taking the test, you have to find a solution by discussing with the students, teachers, parents. In many countries It is being considered to give an average result to the foundation. That too can be considered as an alternative, says Rasheda K Chowdhury.

He said auto promotion was done in 1971 as education was disrupted during the war of independence of Bangladesh. Those who were admitted to the university were stuck in a session, but it was resolved within the next year or two.

 

Check Also

HSC Result Mobile SMS

মোবাইলে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে HSC পরীক্ষা রেজাল্ট – Get HSC Result 2021 Using Mobile SMS

HSC Result 2021 Using Mobile SMS HSC Result Mobile SMS is the modern system for …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *