আলোকশক্তি

Discuss Today

আলোকশক্তি

প্রশ্ন: আলো কী?

উত্তরঃ আলো এক প্রকার শক্তি যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।

প্রশ্ন: পরমাণুতে কোনো শক্তি সরবরাহ করা হলে ইলেকট্রন এক খোলক থকে লাফিয়ে অন্য খোলকে চলে যায়, পরে আবার ওরা যখন নিজ খোলকে ফিরে আসে তখন কোন শক্তি পাওয়া যায়?

উত্তর : আলোশক্তি।

প্রশ্ন: আলোর গতি প্রতি সেকেন্ড কত মাইল?

উত্তর : ১,৮৬,০০০।
[নোট: আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি শূন্য মাধ্যমে। আবার শব্দের বেগ শূন্য মাধ্যমে শূন্য। শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি কঠিন মাধ্যমে তথা লোহাতে ।]

প্রশ্ন: কীভাবে আলোর বর্ণ নির্ধারিত হয়?

উত্তর : আলোর তরঙ্গের মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ কোন বিজ্ঞানী ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যার জন্য নোবেল পুরস্কার পান?

উত্তর : বিজ্ঞানী আইনস্টইন।

প্রশ্ন: আলোর প্রতিসরণ বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় মাধ্যমন্বয়ের বিভেদ তলে তীর্ষকভাবে আপতিত আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তন করার ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।

প্রশ্ন: পানিতে একটি কাঠি ডুবিয়ে রাখলে তা বাঁকা দেখা যায় কেন?

উত্তর: আলোর প্রতিসরণ। (মনে রাখুন, এক দিকে কাত হয়ে সরে যায়।)

প্রশ্নঃ সূর্যোদয়ের খানিটা পূর্বে ও পরে সূর্যকে দেখা যায় কেন?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলীয় আলোর প্রতিসরণের জন্য।

প্রশ্ন: গোধূলির কারণ কী?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলীয় আলোর বিক্ষেপণের জন্য ।

প্রশ্ন: চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলীয় আলোর প্রতিসরণের জন্য।

প্রশ্ন: আলোর বিক্ষেপণ কিসের উপর নির্ভর করে?

উত্তর : কোন আলোর কী পরিমাপ বিক্ষেপণ ঘটে তা নির্ভর করে এর রঙ বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হবে তার বিক্ষেপণ তত বেশি হবে এবং আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষপেণ তত কম হবে।

প্রশ্ন: দৃশ্যমান বর্ণালির ক্ষুদ্রতম তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?

উত্তরঃ বেগুনি।

প্রশ্ন: দৃশ্যমান বর্ণালির বৃহত্তম তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?

উত্তর : লাল।

প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম?

উত্তর: লাল।

প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি?

উত্তর : বেগুনি ।

প্রশ্নঃ কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় এবং কেন?

উত্তর : লাল আলো বেশি দূর থেকে দেখা যায়। কারণ লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় কম বিক্ষেপিত হয়।

প্রশ্ন: সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সূর্য লাল দেখায় কেন?

উত্তর : লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে।

প্রশ্ন: দুপুর বেলা সূর্যকে হলদে দেখায় কেন?

উত্তর : আলোর বিক্ষেপণের জন্য।

প্রশ্ন: আকাশ নীল দেখায় কেন?

উত্তর : নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে সূর্য রশ্মির আলো বায়ুর অণু দ্বারা বেশি বিক্ষিপ্ত হয়।
অর্থাৎ, নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হওয়ার কারণে আকাশ নীল দেখায়।

প্রশ্ন: আলোর প্রতিফলন বলতে কী বুঝায়?

উত্তর : আলো যখন বায়ু বা অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোন মাধ্যমে বাধা পায় তখন দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে কিছু পরিমাণ আলো প্রথম মাধ্যমে আসে; একে আলোর
প্রতিফলন বলে।

প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে কম?

উত্তরঃ লাল। (কারণ লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি)

প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: বেগুনি। (কারণ বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম)

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশের রঙ কেমন দেখাত এবং কেন?

উত্তর : বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশ অন্ধকার বা কালো দেখাত। কারণ সেক্ষেত্রে আলো বিক্ষেপণ হতো না।

প্রশ্নঃ দিনের বেলায় চাঁদকে সাদা দেখায় কেন?

উত্তর : দিনের বেলায় আকাশ কর্তৃক বিক্ষিপ্ত হালকা নীল আলো চাঁদের নিজস্ব হলুদ রঙের সাথে মিশে যায়। এ দুইটি বর্ণের মিশ্রণের ফলে চোখে চাঁদকে সাদা মনে হয়।

প্রশ্ন: মৌলিক রঙ বা মৌলিক বর্ণ কয়টি?

উত্তর : ৩টি। (লাল, নীল, সবুজ)।

মনে রাখার টেকনিক– আসল আ> আসমানী (নীল), স> সবুজ, ল> লাল ।

প্রশ্ন: রঙ্গিন টিভিতে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ কয়টি?

উত্তর: ৩টি। (লাল, নীল, সবুজ)।

প্রশ্ন: দিনের বেলায় গাছের পাতা সবুজ দেখায় কেন?

উত্তরঃ পাতার ক্লোরোফিল সবুজ বর্ণ ব্যতীত সকল বর্ণকে শোষণ করে।

প্রশ্নঃ একটি লাল ফুলকে সবুজ আলোতে রাখলে কেমন দেখাবে?

উত্তর : কালো

প্রশ্ন: সবুজ আলোতে একটি হলুদ ফুলকে কেমন দেখাবে?

উত্তর : কালো

প্রশ্ন: বরফ সাদা দেখায় কেন?

উত্তর : বরফ কোনো আলো শোষণ না করে সব আলো প্রতিফলিত করে বলে।

প্রশ্ন: শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইটে কোন ক্রম অনুসারে আলো জ্বলে?

উত্তর : লাল-হলুদ-সবুজ-হলুদ-লাল ।

প্রশ্ন: মানুষের চোখের লেন্স কিরূপ?

উত্তর : দ্বি-উত্তল।

প্রশ্ন: লেপের ক্ষমতার একক কী?

উত্তর : ডায়াপ্টার।

প্রশ্ন: মানুষের দর্শানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত? –

উত্তর ঃ ০.১ সেকেন্ড।

প্রশ্ন: রড কোষ ও কোেণ কোষের কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : রেটিনায়।

প্রশ্ন: কোথায় আলো পড়লে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভুতি জাগে?

উত্তর : রেটিনায়।

প্রশ্ন: আলট্রাসনোগ্রাফি কী?

উত্তর : ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং।

প্রশ্ন: ফটোগ্রাফিক প্লেটে কিসের আবরণ আছে?

উত্তর : সিলভার আয়োডাইডের।

প্রশ্ন: আয়নার পেছনে কিসের প্রলেপ দেয়া হয়?

উত্তর : রৌপ্য বা সিলভার।

প্রশ্ন: দর্পণ কাকে বলে?

উত্তর: যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে।

প্রশ্ন: লেন্স কাকে বলে?

উত্তর: দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ
প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।

প্রশ্ন: লেন্স কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: লেন্স দুই প্রকার। যথা: ১. উত্তল লেন্স ও ২. অবতল লেন্স।

উত্তল দর্পণ:

১। পিছনের যানবহন বা পথচারী দেখার জন্য গাড়িতে ব্যবহৃত হয়।

২। উত্তল দর্পণ দিয়ে বিস্তৃত এলাকা দেখা যায় বলে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

৩। প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে এই দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

৪। রাস্তার বাতিতে প্রতিফলক রূপে।

অবতল দর্পণ:

১। দন্ত চিকিৎসকগণ ব্যবহার করেন।

২। টর্চলাইট, স্টিমার বা লঞ্চের সার্চলাইটে প্রতিফলক হিসেবে।

৩। আলোক ও তাপশক্তি ইত্যাদি কেন্দ্রীভূত করে কোন বস্তুকে উত্তপ্ত করতে, রাডার এবং টিভি সংকেত সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ডিশ এ্যান্টেনা, সৌরচুল্লি, টেলিস্কোপ এবং বাড়ার সংগ্রাহক ইত্যাদিতে।

৪। ডাক্তাররা চোখ, নাক, কান ও গলা পরীক্ষা করার জন্য অবতল দর্পণ ব্যবহার করেন।

উত্তল লেন্স:

১। আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২। চশমা, ক্যামেরা, ম্যাগনিফাইড গ্লাস (বিবর্ধক কাঁচ), অণুবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

৩। আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।

অবতল লেন্স:

১। সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টরে অবতল লেন্স ব্যবহৃত হয়।

কনফিউশান প্রশ্নঃ যেখানে ভুল হতে পারে-

রঙিন টেলিভিশনে রঙ থাকে- ৩টি।

রংধনুতে রঙ থাকে- ৭টি।

রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা।

রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের মতো কাজ করে। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে, তখন বস্তুটিকে কালো দেখাবে।

কোনো বস্তু যখন সমস্ত কোনো আলোই শোষণ করে না, তখন বস্তুটিকে সাদা দেখাবে।

কোন রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় কালো।

কোন রঙের কাপে চা বেশিক্ষণ গরম থাকে- সাদা।

কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি লাল

কোন আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম = বেগুনি

কোন আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি = বেগুনি

কোন আলোর প্রতিসরণ সবচেয়ে কম লাল

কোন আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি = বেগুনি

কোন আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম লাল

কোন বর্ণের আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি = বেগুনি

কোন আলোর বিচ্যুতি সবচেয়ে কম = লাল

আকাশ নীল হওয়ার কারণ- নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি

সাগরের পানি নীল হওয়ার কারণ- নীল আলোর বিক্ষেপণ

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায়- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে।

নীল কাচের মধ্য দিয়ে হলুদ ফুল- কালো দেখায়।

লাল আলোতে গাছের পাতা – কালো দেখায়।

লাল ফুলকে সবুজ আলোয় – কালো দেখায়।

আলোর বিক্ষেপণের কিছু ঘটনাঃ

*আকাশ নীল দেখায়

*সমুদ্র নীল দেখায়

আলোর প্রতিসরণের কিছু উল্লেখ কিছু ঘটনাঃ

*পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখায়

*চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কিছু ঘটনাঃ

* মরীচিকা

*অপটিক্যাল ফাইবারে আলোক সংকেত

* হীরক উজ্জ্বল দেখায়

[বি.দ্রঃ মনে রাখুন, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তার প্রতিসরণ, বিক্ষেপণ, বিচ্যুতি বেশি হয় এবং যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তার প্রতিসরণ, বিক্ষেপণ, বিচ্যুতি কম হয়। অর্থাৎ উল্টোটি ঘটে। কম হলে বেশি বেশি হলে কম!]

নোট মোস্তাফিজার মোস্তাক

Check Also

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)

বিভিন্ন প্রকার কালচার (চাষ)  পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ গুলো বাছাই করে Important culture গুলো দেয়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *