অসহায়দের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের হাজারো অসহায় মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অসহায়দের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
অসহায়দের পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুয়া), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (কুটা), হেল্প স্কোয়াড খুলনা, ভলান্টিয়ার এগেইনস্ট কন্টাজিউন (ভিএসি), বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন,

বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রবাসে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তিপর্যায়ে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী যার যার সাধ্যমতো গরীবদের সহায়তায় এগিয়ে আসছেন।

করোনাভাইরাসের বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১৫ লাখ টাকা দান করেছে খুবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একদিনের মূল বেতনর সমপরিমাণ অর্থ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলিয়ে যৌথ এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে ৯ মে তারিখ খুবি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আরো এক লাখ টাকা উক্ত তহবিলে জমা দেয়। এছাড়া ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, নাজমুস সাদাত বলেন, ঈদের আগেই প্রায় পাঁচশ পরিবারের কাছে প্রায় দশ দিনের খাবার দেওয়া হয়েছে।

খুলনার বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক এবং পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। কুয়াথর ত্রাণ কার্যক্রম খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টিউশনি করে সংসার চালানো শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিপদে পড়েছে। এদের মধ্যে প্রায় চারশতাধিক শিক্ষার্থীকে তাদের পরিচয় গোপন রেখে তিন হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে থাকা ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের আর্থিক সহোযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে তিনটি ওয়েবিনার আয়োজন করছি।

কুয়া ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ভিএসি এবং হেল্প স্কোয়াড খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও পার্শ^বর্তী এলাকায় তাদের কর্মকা- পরিচালনা করছে।

ভিএসি’র সিয়াম আদনান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৬১ হাজার টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছি। যা দিয়ে সর্বমোট ১২০০ পরিবার কে খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে এবং ৭৯ জন কে আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

ফান্ড কালেকশনের কাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন দোকানের মালিকরাও এগিয়ে এসেছেন। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আমরা জরুরি ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিতর্ক বিষয়ক সংগঠন নৈয়ায়িক অনলাইন বিতর্ক কর্মশালা ও খুবি আর্ট সোসাইটি অনলাইন চিত্রকর্ম প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত অর্থ ত্রাণসহায়তা কাজে প্রদান করেছে।

অনেকে আবার নিজ এলাকার কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের অনেক মেস মালিকরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৫ শতাংশ বাসা ভাড়া মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলনে, দেশের এই সংকটে সকলের একসাথে এগিয়ে আশা সত্যিই প্রশংসার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের এই মুহূর্তে দুশ্চিন্তা মুক্ত থেকে মনোবল শক্ত রাখতে হবে এবং পরস্পরের খোঁজখবর রাখতে হবে।

Check Also

মুক্ত হয়ে সমর্থকদের যা বললেন মামুনুল হক (ভিডিও)

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *